ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক বিমানবন্দরে অন্তত সাতটি পৃথক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রিয়াদ, দাম্মাম, আবহা, জাজান ও নাজরানের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৬ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন সাড়ে তিনশ’র বেশি মানুষ।
সপ্তাহের শুরুতে সোমবার সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তের কাছে অবস্থিত জাজানের কিং আব্দুল আজিজ ও নাজরান বিমানবন্দরে একযোগে ড্রোন হামলা চালানো হয়, যাতে অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। এরপর মঙ্গলবার আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুইজন নারী বাসিন্দা নিহত এবং অন্তত ২৮ জন আহত হন। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার ২ জন নারী বাসিন্দা নিহত হন এবং অন্তত ২৮ জন আহত হন।
বুধবার রিয়াদ বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় একজন সুদানীয় নাগরিক নিহত ও আটজন আহত হন। বৃহস্পতিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে চালানো আরেকটি হামলায় একজন পাইলটসহ অন্তত তিনজন সৌদি নাগরিক নিহত হন। এছাড়া শনিবার রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো ভয়াবহ হামলায় দুইজন বাংলাদেশী ও চারজন সৌদি নাগরিকসহ মোট ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি চালানো হয়। এই হামলায় ২ জন বাংলাদেশী এবং ৪ জন সৌদি নাগরিকসহ মোট ১২ জন নিহত হন এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রিয়াদ বিমানবন্দরে চালানো হামলায় এক জন পাইলটসহ অন্তত ৩ জন সৌদি নাগরিক নিহত হন। বুধবার (৭ অক্টোবর) রিয়াদ বিমানবন্দরেই পৃথক আরেকটি হামলায় ১ জন সুদানীয় নাগরিক নিহত ও ৮ জন বাসিন্দা আহত হন।
ধারাবাহিক এই হামলার অংশ হিসেবে রবিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৪-এ হামলা চালানো হয়, যার ফলে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং অনেকে আহত হন। একই দিনে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দাম্মামে অবস্থিত কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। গত রবিবার (১১ অক্টোবর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৪-এ হামলা চালানো হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এবং রয়টার্স ও এপির প্রতিবেদন সূত্রে এই এক সপ্তাহের ধারাবাহিক বিমানবন্দর হামলার বিবরণ পাওয়া গেছে।
রিয়াদ ও দাম্মামের মতো আন্তর্জাতিক ট্রানজিট হাবগুলোতে নজিরবিহীন এসব আক্রমণের কারণে শতাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করতে হয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সিসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুথিদের এই কর্মকাণ্ডকে স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় জোট বাহিনী ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলা জোরদার করেছে। এদিকে, রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।





