২৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্মাণ ইন্টারন্যাশনালের পাঁচ দশকের স্থাপত্য ও আস্থার গল্প

প্রকাশ:

১৯৭৬ সালে কে জেড ইসলাম ‘নির্মাণ’ নাম দিয়ে বহুতল ও আইকনিক ভবন তৈরির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। কাজ শেষ করার চেয়েও গুণগত মান ও আস্থার সঙ্গে স্থাপনা গড়ে তোলাই ছিল প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য। প্রায় ৫০ বছর পর আজ দেশের পরিচিত বহু স্থাপনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই প্রতিষ্ঠানের নাম। আশির দশকে কাজের স্বচ্ছতা ও দূরদর্শিতার জন্য সুনাম অর্জন করার পর নব্বইয়ের দশকে বড় বড় সব প্রকল্পের ক্ষেত্রে নির্মাণ ইন্টারন্যাশনাল প্রথম পছন্দের তালিকায় চলে আসে। প্রায় ৫০ বছর পর সেই ধারাবাহিকতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো দেশের একের পর এক পরিচিত স্থাপনার সঙ্গে ‘নির্মাণ’ ইন্টারন্যাশনাল নাম যুক্ত হওয়া। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, সময় বদলালেও তাদের মূল্যবোধ ও অগ্রাধিকার বদলায়নি।

প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণ করা উল্লেখযোগ্য স্থাপনার মধ্যে রয়েছে মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন (৩২ তলা), সেনাকল্যাণ ভবন (২১ তলা), মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার (২০ তলা) এবং গাজীপুরের বোর্ডবাজারে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি। নব্বইয়ের দশকের মধ্যেই দেশের গণ্ডি পেরিয়ে তাদের কার্যক্রম সংযুক্ত আরব আমিরাতে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ১৯৯২ সালে আবুধাবিতে ১৯ তলা আল-সাকসাক ভবন, ১৯৯৩ সালে ১০ তলার আল কাসমি ও ১৯ তলার আল মোবাররক ভবন হস্তান্তর করে তারা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ও আমিরাতজুড়ে এখন পর্যন্ত ৫০টির বেশি প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব ভবন নির্মাণ হস্তান্তর করেছে বিংশ শতাব্দীর আগেই; অর্থাৎ যাত্রার শুরু প্রথম দুই বা আড়াই দশকের ভেতরেই। এর মধ্যেই নির্মাণের কাজ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে যায়।

উঁচু ভবনের পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং খাতেও নির্মাণ ইন্টারন্যাশনাল সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। তারা বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো খাতে পরামর্শক সেবা ও টার্নকি ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন) সুবিধা দিচ্ছে। আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহারকে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নির্মাণ কৌশলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখছে। পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের কথাও বলছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটি এখন বেশ কিছু নতুন প্রকল্পে মনোনিবেশ করেছে। এর মধ্যে তেজগাঁও বাণিজ্যিক এলাকায় নির্মাণাধীন রয়েছে ৩০ তলা বিশিষ্ট ‘মিরাই বাই নির্মাণ’, যার মোট আয়তন ৪ লাখ বর্গফুট এবং ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে এটি হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া গুলশান-২ এর ৯৬ নম্বর সড়কে ১৪ তলা ‘সিরোক্কো বাই নির্মাণ’ এবং হাতিরঝিলে ১০ তলা ‘লিলিয়া বাই নির্মাণ’ প্রকল্পগুলো চলমান, যার শেষটি ২০২৯ সালের ডিসেম্বরে হস্তান্তর করা হবে। ধানমন্ডি ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়ও তাদের নতুন সব প্রকল্প কাজ এগিয়ে চলছে। যুগের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চললেও গুণগত মান ও অঙ্গীকারই এখনো নির্মাণ ইন্টারন্যাশনালের প্রধান পরিচয়।

শেয়ার করুন