২৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেলাপোকা পোস্ট থেকে প্রতিবাদী নেতা: মোদি সরকারের চ্যালেঞ্জ দীপকে

প্রকাশ:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছয় শব্দের একটি প্রশ্ন থেকে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত হয়ে উঠেছেন ৩১ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে। চলতি বছরের মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ হিসেবে মন্তব্য করার প্রতিক্রিয়ায় দীপকে লিখেছিলেন, ‘সব তেলাপোকা যদি একসঙ্গে জড়ো হয়, তাহলে কী হবে?’ এই প্রশ্নটি মুহূর্তের মধ্যে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের জন্ম দেয়। দলিত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই তরুণ যুক্তরাষ্ট্র থেকে জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর দেশে ফিরে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অনলাইনে জনপ্রিয়তা পাওয়া এই উদ্যোগ অল্প সময়ের মধ্যে তরুণদের আন্দোলনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

চিকিৎসাশাস্ত্রে ভর্তির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষার্থীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় এই প্ল্যাটফর্মটি তরুণদের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এই ধারাবাহিক আন্দোলনের মুখে গত ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। কর্মসংস্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবিতে সরব এই সংগঠনটি বর্তমানে ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বেকারত্ব, সরকারি চাকরির সংকট, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ তরুণদের একত্র করে সংগঠনটি। এরপর থেকে কর্মসংস্থান, সরকারি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো এবং শিক্ষা খাতের জবাবদিহির মতো বিষয়েও সরব রয়েছেন দীপকে ও তার সমর্থকেরা।

সর্বশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের জেরে দিল্লির রাজপথে আন্দোলন শুরু করেছেন দীপকে ও তার অনুসারীরা। তাদের অভিযোগ, তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও নাগরিক ভোটাধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যদিও নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক বলে দাবি করছে। কমিশনের দাবি, ভুলক্রমে বাদ পড়া ভোটাররা পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ককে কেন্দ্র করে আবারও রাজপথে নেমেছেন তারা।

এই আন্দোলনের অংশ হিসেবেই শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে প্রতিবাদী সমাবেশে যোগ দিতে যান দীপকে। সেখানে পৌঁছানোর পর পুলিশ তাকে ও তার সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করে। পুলিশ দাবি করেছে, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বরং সহায়তার জন্য বলা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে দীপকে পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেন, ‘আমাকে গ্রেপ্তার করতে এসেছেন, গ্রেপ্তার করুন। আমি আপনাদের ভয় পাই না।’ বিক্ষোভ ঠেকাতে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পাশাপাশি যান চলাচল ও টেলিযোগাযোগেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দীপকে। মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আদর্শ অনুসরণ করে তিনি গণতন্ত্র রক্ষায় পিছিয়ে না আসার বার্তা দিয়েছেন। আন্দোলনের পর থেকে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে হুমকির মুখে পড়লেও তিনি জানিয়েছেন, ভাইরাল হওয়া পোস্টটি তাকে জনসেবার একটি অর্থবহ সুযোগ করে দিয়েছে। দীপকে ও তার সংগঠনের এই উত্থান এখন ভারতের ক্ষমতাসীন মোদি সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার পর তিনি ও তার পরিবার হুমকির মুখেও পড়েছেন।

শেয়ার করুন