২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গৃহযুদ্ধ ও পতনের দ্বারপ্রান্তে ইসরাইল, সতর্ক করল সিআইএ

প্রকাশ:

রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভাজনে ইসরাইল এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে। গাজা, লেবানন ও ইরানে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রভাবে দেশটির আর্থ-সামাজিক অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র একটি শীর্ষ গোপন পর্যালোচনায় সতর্ক করা হয়েছে যে, অভ্যন্তরীণ সংকটের জেরে ইসরাইল ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ বা সরাসরি রাষ্ট্রীয় পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। মার্কিন অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ‘ড্রপ সাইট নিউজ’ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে।

সিআইএ’র বিকল্প ও দূরদর্শী মূল্যায়নকারী বিশেষ ইউনিট ‘রেড সেল’ গত আগস্টে ‘ফ্র্যাকচার ফ্রম উইদিন’ বা ভেতর থেকেই ভাঙন শিরোনামে প্রতিবেদনটি তৈরি করে। গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ২৭শে অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসরাইলে এক বিস্ফোরক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে এই পর্যালোচনায় দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি আরব নাগরিকদের বাদ দিয়ে কেবল ইহুদি সমাজের সংকটগুলোকেই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশটিতে অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ঝুঁকিটি এখন নিছক অনুমান নয় বরং অত্যন্ত বাস্তব।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মানির পরিস্থিতির সঙ্গে ইসরাইলের বর্তমান অবস্থা তুলনা করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফেরা হাজার হাজার ট্রমাগ্রস্ত ও আধুনিক মারণাস্ত্রে সজ্জিত সেনাসদস্যদের বেসামরিক জীবনে মানিয়ে নেওয়ার অভাব সমাজে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, এসব সেনাদের মানসিক অবস্থা অনেকটা জার্মানির রক্তপিপাসু ‘ফ্রাইকর্পস’ বাহিনীর মতো আশঙ্কাজনক মোড় নিতে পারে।

ইসরাইলি সমাজের গভীরে থাকা ধর্মীয় ও সামরিক মেরুকরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিরা ধর্মীয় শিক্ষার দোহাই দিয়ে বাধ্যতামূলক সেনা দায়িত্ব থেকে ছাড় পেলেও সাধারণ রিজার্ভিস্টদের বারবার ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। এই বৈষম্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। এর ওপর যুদ্ধের প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধিও নাগরিক অসন্তোষের অন্যতম কারণ; গত দুই বছরে দেশটিতে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সাংবিধানিক সংকটের কারণে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বও এখন চরম প্রশ্নের মুখে। আসন্ন নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী পক্ষ—কারোরই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা ৬১টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এছাড়া পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। মার্কিন পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, এখন ৬০ শতাংশ মার্কিনি ইসরাইলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। ফলে দেশটি ক্রমশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একঘরে হয়ে পড়ছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারাচ্ছে, যা যে কোনো ছোট স্ফুলিঙ্গ থেকেই বড় সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।

শেয়ার করুন