২০ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কূটনীতিকে আরও অর্থনীতিকেন্দ্রিক করার তাগিদ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশ:

জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশের কূটনীতিকে আরও অর্থনীতিকেন্দ্রিক করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। তাই পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতার আলোকে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে পররাষ্ট্রনীতির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বিশ্বে দ্রুত পরিবর্তনশীল ক্ষমতার ভারসাম্য এবং প্রতিযোগিতামূলক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত রাষ্ট্র পরিচালনার ধরণ বদলে দিচ্ছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশকে শুধু পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিলেই চলবে না, বরং ভবিষ্যতে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার প্রস্তুতি নিতে হবে। পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে তিনি জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন বাজারের সন্ধান, বিনিয়োগ আকর্ষণ, দেশীয় পণ্যের প্রচার এবং প্রবাসীসহ দেশের মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে মিশনগুলোকে নিরলস কাজ করতে হবে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে শান্তি ও সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্য, জ্বালানি ও আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে তিনি আহ্বান জানান।

রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক এবং দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য সংকট, পানি ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সীমান্তপারের সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির চারটি মূল স্তম্ভ তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ হবে পথপ্রদর্শক, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন হবে শক্তি, অংশীদারত্ব সৃষ্টি করবে নতুন সুযোগ এবং শান্তিই থাকবে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এই সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ বক্তা, ৩০০ প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নিয়েছেন। তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনটি সোমবার সমাপ্ত হয়, যেখানে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, কূটনীতিক, গবেষক, ব্যবসায়ী ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন