১৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ:

ফেনীর পরশুরাম ও খোয়াইঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ দুপুরে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর সেখানে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন। গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এর কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের বৃহৎ কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন এবং ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর রক্ষার কাজ করা হবে। এছাড়াও ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো সংস্কার এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ ও নদী সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের।

সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা হয়ে দুপুর সোয়া একটায় ফেনীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরশুরামে উদ্বোধনী কাজ শেষে তিনি ফুলগাজী বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ করেন এবং স্থানীয় জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনগুলোতে মোট ৯৬২.৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫, পরশুরামে ২৯৮ এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগদানের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ওই সভায় তিনি জেলাজুড়ে কৃষক কার্ডধারী ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক এবং ফুলগাজীর ৫১০ জন সুবিধাভোগীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন। একই অনুষ্ঠানে ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী প্রদান করা হবে। জনসভায় ভাষণ শেষে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ফেনী-১ আসনের অন্তর্গত ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নানা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের পৈতৃক নিবাস। এই এলাকাটি বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক স্মৃতিবিজড়িত একটি স্থান। ১৯৯১ সাল থেকে এই আসন থেকে তিনি মোট পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফুলগাজীসহ তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসনের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের স্মৃতি জড়িত।

শেয়ার করুন