১৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী শাহিন আলমের মৃত্যু

প্রকাশ:

রাজধানীর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী শাহিন আলম (৪০) নামের এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জানা গেছে, তিনি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার একটি ফৌজদারি মামলায় কারাগারে আটক ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুরে এবং বাবার নাম এম এ বাছির। ৪০ মিনিটের ব্যবধানে ঢাকা মেডিকেলে আনা দুই কারাবন্দীর মৃত্যু।

কারা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ৭০১ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোর পাঁচটার দিকে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিম হোসেন জানিয়েছেন, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তর ও বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৫ বছর ৯ মাসে মোট ১ হাজার ২৩৫ জন কারাবন্দীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে। কেবল অকালমৃত্যুর এই প্রবণতা নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ‘৫ বছর ৯ মাসে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু ৩০০ কারাবন্দীর’শীর্ষক একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বন্দীর মৃত্যুর বিষয়টি বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতেও হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরেক কারাবন্দীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। অকালমৃত্যুর এই ধারাবাহিকতায় কারাগার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সেবার মান ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বারবার সামনে চলে আসছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত কয়েক বছরে কয়েকশ বন্দীর পথেই প্রাণহানি হয়েছে, যা কারাসংক্রান্ত চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতার দিকে নির্দেশ করে।

শেয়ার করুন