১৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুষ চাওয়ার ভিডিও ফাঁসের পর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী বরখাস্ত

প্রকাশ:

আর্থিক লেনদেন বিষয়ক অনৈতিক কথোপকথনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর লক্ষ্মীপুরের বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক-৩ মো. কাউসার আহমেদ অপু স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকৌশলী নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে লেনদেন সংক্রান্ত ভিডিও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার ঘটনাটি দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা ১৯৮২-এর ১৪১ (১) নম্বর ধারা মোতাবেক তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উক্ত বিধিমালার আলোকেই তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিউবো।

এর আগে রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে প্রকৌশলী নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেব।’ তিনি আরও বলেন, এসি স্যার রাজি হয়েছেন এবং দুই কোটি টাকার বিষয়ে তিনি অনড়। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলেও তিনি যাবেন উল্লেখ করে বলেন, একটি বিলের বিনিময়ে দুই কোটি টাকা নিলে চেয়ারম্যান পদায়ন ভালো জায়গায় দেবেন। সেই সঙ্গে ৩ লাখ টাকার কাজে ৩০ লাখ টাকার মালামাল লাগার হিসাব দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রায় ৫ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাৎ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ভিডিওর এক অংশে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘’এসি স্যার রাজি হয়ে গেছে কোনো একটা কারণে, আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়বো না। ৬ কোটি টাকা তিনগুণ না, আমি দুই কোটি টাকার কমে নড়বো না, চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাবো। একটা বিলের জন্য যদি ২ কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে। সোজা হিসেব, ৩ লাখ টাকার ওয়ার্কে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকা।

প্রকাশিত ওই ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে এই কর্মকর্তাকে নগদ টাকা গ্রহণ করতেও দেখা যায়। সেখানে তাঁদের চেহারা না দেখা গেলেও কথোপকথনে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে ৩৫ স্যার’। জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘এক লাখ ৩৫’। এরপর ওই ব্যক্তি জানান যে তিনি পূর্বে আরও ১ লাখ টাকা পরিশোধ করেছিলেন। তবে ওইসব ব্যক্তিদের মুখ দেখা যায়নি।

শেয়ার করুন