৫০তম বিসিএস পরীক্ষার চলমান প্রক্রিয়া ও বিজ্ঞপ্তিকৃত পদের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তারা মূলত সরকারি কলেজের শিক্ষা ক্যাডারের বিদ্যমান শূন্য পদগুলো এই বিসিএসে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নন-ক্যাডার পদের সংখ্যা বৃদ্ধির জোরালো দাবি তুলেছেন। চাকরিপ্রার্থীদের মতে, আগের বিসিএসগুলোয় বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য থেকে যাওয়ায় একদিকে যেমন সরকারি প্রতিষ্ঠানে জনবলসংকট প্রকট হচ্ছে, অন্যদিকে যোগ্য প্রার্থীরাও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শিক্ষা ক্যাডারের পদসংকট
চাকরিপ্রার্থীরা জানান, ৫০তম বিসিএসের বর্তমান বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি কলেজের শিক্ষা ক্যাডারের জন্য মাত্র ১৩৯টি পদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অথচ ৪৭তম বিসিএসে সরকারি কলেজে এই ক্যাডারে মোট পদের সংখ্যা ছিল ৯২৯টি। এর মধ্যে ৭১৩টি পদই ফাঁকা থেকে গিয়েছিল, যা মোট পদের প্রায় পৌনে ৭৭ শতাংশ। বিশেষভাবে বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, রসায়ন, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোয় শিক্ষক পদ সবচেয়ে বেশি খালি রয়েছে। প্রার্থীদের অভিমত, এই বিশাল সংখ্যক শূন্য পদ ৫০তম বিসিএসে যুক্ত না করলে সরকারি কলেজের শিক্ষকসংকট কোনোভাবেই নিরসন করা সম্ভব নয়। পড়াশোনার সঙ্গে কাজ, ইউরোপের যে ১০ দেশে আয় বেশি।
নন-ক্যাডার পদ ও সুপারিশ সমন্বয়
নন-ক্যাডার পদের স্বল্পতা নিয়েও প্রার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। ৫০তম বিসিএসে মাত্র ৩৯৫টি নন-ক্যাডার পদ বিজ্ঞাপিত হয়েছে, অথচ এই বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ হাজার ১৬৫ জন প্রার্থী। চাকরিপ্রার্থীরা মনে করেন, বিশেষ বিধিমালা প্রয়োগ করে সরকার চাইলেই নন-ক্যাডার পদের সংখ্যা বাড়াতে পারে। তারা উদাহরণ হিসেবে ৪৪তম বিসিএসের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ৪ হাজার ১৫৬টি নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এর পাশাপাশি, একই ব্যক্তির বারবার বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়ার সমস্যাটিও তুলে ধরা হয়েছে। অনেক প্রার্থী যারা ইতিপূর্বে প্রশাসন বা পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েছেন, তারা পরবর্তী বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিম্ন ক্যাডার বা নন-ক্যাডারে জায়গা দখল করছেন। ফলে পদ নষ্ট হচ্ছে এবং নতুন মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আগেই এই বিষয়গুলো সমন্বয় করে সম্পূরক ফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা। প্রার্থীরা আরও একটি বড় সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। পূর্ববর্তী বিসিএসে ভালো ক্যাডার পেয়েও অনেকে পরবর্তী বিসিএসে আবার অংশ নিচ্ছেন।
পিএসসির অবস্থান
চাকরিপ্রার্থীদের দাবির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বিসিএসে পদের চাহিদা নির্ধারণের বিষয়টি পুরোপুরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। পিএসসি কেবল বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, পরীক্ষা গ্রহণ এবং চূড়ান্ত ফল প্রদানের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে থাকে। বিজ্ঞপ্তিতে কতটি পদ থাকবে বা পরবর্তীতে পদ বাড়ানো হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হাতে। অর্থাৎ, পদ বাড়ানোর দাবিতে চাকরিপ্রার্থীদের যে আন্দোলন বা দাবি, সেটির সমাধান দেওয়ার ক্ষেত্রে পিএসসির কোনো ভূমিকা নেই এবং পূর্ণ ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের হাতেই ন্যস্ত রয়েছে বলে কমিশন সূত্র জানিয়েছে। ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি, পদ ৫০০০, সাধারণ বিসিএস কবে।





