৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অ্যাক্রেডিটেশন গৌরবের মাইলফলক: ডা. শফিকুর

প্রকাশ:

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন গৌরবের মাইলফলক। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, স্বীকৃতি অর্জনের চেয়ে তা ধরে রাখা এবং এর মর্যাদা রক্ষা করা অনেক বেশি কঠিন। এই অ্যাক্রেডিটেশন প্রতিষ্ঠানের ওপর অর্পিত দায়িত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

উদযাপন ও মূল আলোচনা

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নগরীর আমান উল্লাহ কনভেনশন হলে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কিছু মানুষের সাহসী ও দূরদর্শী উদ্যোগের ফলে সিলেটে শুধুমাত্র নারীদের জন্য এই বিশেষায়িত মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। প্রতিকূলতা জয় করে প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তিনি আরও বলেন, নারীদের বিশ্বমানের চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি বৃহত্তর সিলেটের মানুষের চিকিৎসাসেবায় এই প্রতিষ্ঠানটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের শতাধিক মেডিকেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র আটটি প্রতিষ্ঠান এই বিশেষ অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন করেছে, যার মধ্যে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অন্তর্ভুক্তি অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। এই ধারাবাহিকতা ও শিক্ষার মান রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল

তিনি আরও বলেন, এই সাফল্য কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একক প্রচেষ্টার ফল নয়। প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি, অধ্যক্ষ, শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত পরিশ্রম এবং ত্যাগের মাধ্যমেই এই সফলতা অর্জিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে যারা এর অগ্রযাত্রায় অবদান রেখেছেন, তাদের সবার অবদান এই সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তিনি মনে করেন, এটি এখন কেবল প্রতিষ্ঠাতাদের সম্পদ নয়, বরং সমগ্র সিলেটবাসীর গৌরবের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা

অ্যাক্রেডিটেশন পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এই অর্জনের পর দায়িত্ব আরও অনেক বেড়ে গেছে। চিকিৎসা শিক্ষার উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি রোগীদের সর্বোচ্চ মানের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠান থেকে পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি উন্নত মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন চিকিৎসক তৈরি হবে এবং তারা আর্তমানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবেন—এটাই প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানের বিবরণ

  • সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. শাহানা ফেরদৌসের সভাপতিত্বে এবং সহযোগী অধ্যাপক ডা. হোসাইন আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী।
  • অনুষ্ঠানে হোলি সিলেট হোল্ডিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ফজলুর রহিম কায়সার, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ মতিন, মো. ফখরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. ওয়েছ আহমদ চৌধুরী এবং হাসপাতালের পরিচালক ও উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
  • স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. তহুর আব্দুল্লাহ চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মাওলানা জাদুল আহমদ।
  • এদিকে সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
  • এরপর একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও কেক কাটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী। পরিশেষে আমান উল্লাহ কনভেনশন হলে আলোচনা সভা ও মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন সম্পন্ন হয়।
শেয়ার করুন