৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লজিস্টিকস উন্নয়ন ও বাণিজ্য ব্যয় কমাতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

প্রকাশ:

আমদানি ও রপ্তানি পণ্য খালাসের জটিলতা কমিয়ে লজিস্টিকস খাতের মানোন্নয়ন এবং সামগ্রিক বাণিজ্য ব্যয় হ্রাস করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কমিটি’র দশম সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পণ্য চালান দ্রুত খালাসে সময় ও খরচ কমানোর লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন দপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাণিজ্য প্রক্রিয়া সহজ করার প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে। এসব উদ্যোগের সুফল যেন ব্যবসায়ীরা দ্রুত পেতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সব দপ্তরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশের নির্ধারিত ৫৪টি পদক্ষেপের মধ্যে বর্তমানে ৪৭টি বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাটাগরি-এ’র ২১টি এবং ক্যাটাগরি-বি’র ১৮টি বাধ্যবাধকতার তথ্য এরই মধ্যে ডব্লিউটিওকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া ক্যাটাগরি-সি’র ১৫টি পদক্ষেপের মধ্যে আটটি বাস্তবায়ন শেষ হয়েছে এবং বাকি সাতটি ২০৩০ সালের জুন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে এ কাজগুলো দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বাণিজ্য সহজীকরণ ও অটোমেশনের বিষয়ে সভায় জানানো হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যেখানে এখন পর্যন্ত ১৯টি সংস্থা যুক্ত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ১৮টি দপ্তরকে এর আওতায় আনার কাজ চলছে এবং পৃথক একটি সিঙ্গেল উইন্ডো কমিশনারেট গঠনের কার্যক্রমও চলমান। এনবিআর সদস্য ড. আল আমিন প্রামাণিক সভায় জানান, আগামী অক্টোবরের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার বা এআরএমএস বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, যা পণ্য খালাস প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে। এছাড়া অথোরাইজড ইকোনমিক অপারেটর সনদপ্রাপ্তির সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি অনলাইন অটো-ম্যানিফেস্ট রেজিস্ট্রেশন ও ন্যাশনাল ইনকোয়ারি পয়েন্ট চালু করা হয়েছে।

পচনশীল পণ্য রপ্তানির অবকাঠামো উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে কোল্ড স্টোরেজ আধুনিকায়ন। বেনাপোলে নতুন কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের দরপত্র মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং মোংলায় ১৮ একর জমিতে কোল্ড স্টোরেজ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের দেওয়ানহাটে রপ্তানিমুখী কৃষিপণ্যের জন্য প্যাকিং হাউস ও কোল্ড চেইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান জানান, বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির কার্যক্রম একক কোনো মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, তাই সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে অসামঞ্জস্য দূর করতে অভিন্ন কার্যপদ্ধতি ও ডিজিটাল সিস্টেমের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। এছাড়া খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষাগারের সুবিধা বৃদ্ধির ওপরও আলোচনা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, এনবিআর, বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন