ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ‘কাচারি বাড়ি’ বর্তমানে গভীর অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। ব্রিটিশ আমলে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর ১৯৫০ সালের দিকে মূলত জনগণের কাছ থেকে ভূমি কর আদায়ের লক্ষ্যেই উচাখিলা বাজারের উত্তর পাশে এই কাচারি বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছিল। একসময় এটি এ অঞ্চলের ভূমি প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার কারণে এর পুরোনো ঐতিহ্য আজ ম্লান হতে বসেছে।
কাচারি বাড়িটি মোট ১ একর ১৯ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি এই বিশাল জায়গার একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে বেদখল হয়ে আছে। কাচারি বাড়ির দক্ষিণ পাশের জমিতে স্থানীয়ভাবে কাঠের ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, কেউ কেউ কাচারি বাড়ির সীমানা ঘেঁষে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ক্রয় করছেন এবং ভূমি অফিসের সরকারি জায়গা ব্যবহার করে চলাচলের রাস্তা তৈরি করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। মূল্যবান অনেক গাছও সময়ের ব্যবধানে কাটা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রবীণরা জানিয়েছেন।
বর্তমানে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়ছে। সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকায় পরিবেশটি স্থানীয়দের কাছে ভুতুরে মনে হয়। রাতের আঁধারে পুকুরঘাট এলাকায় মাদকসেবীদের আসর বসার অভিযোগও রয়েছে, যা সরকারি অফিসের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—১ একর ১৯ শতাংশ সরকারি জমি থাকা সত্ত্বেও কেন এখানে একটি আধুনিক ও সুরক্ষিত ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে না? তারা মনে করেন, এটি কেবল একটি অফিসের জায়গা নয়, বরং ব্রিটিশ-পরবর্তী ভূমি প্রশাসনের ইতিহাসের একটি স্মৃতিচিহ্ন, যা সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা মূলত ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে রয়েছে—ঈশ্বরগঞ্জ সদর, সোহাগী, সরিষা, আঠারবাড়ী, জাটিয়া, মাইজবাগ, মগটুলা, রাজিবপুর, উচাখিলা, তারুন্দিয়া ও বড়হিত। এর মধ্যে ৮টি ইউনিয়নের কার্যক্রম নিজস্ব ভবন থেকে পরিচালিত হলেও নিজস্ব ভবন না থাকা ইউনিয়নগুলোর মানুষকে সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে উচাখিলা ভূমি অফিসের সুরক্ষায় চারদিকে স্থায়ী সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, পুরোনো কাঠের ভবনটিকে আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব না হলেও সরকারি এই সম্পত্তি উদ্ধার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি।
সার্বিক বিষয়ে উচাখিলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব/তহশিলদার) সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক সেবাগ্রহীতাকে ভূমি সংক্রান্ত সেবা প্রদান করছেন। তবে বাজারের পাশে অবস্থিত সরকারি জায়গাটি নিয়ে যে অব্যবস্থাপনা ও বেদখলের অভিযোগ রয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও উপজেলা কর্তৃপক্ষের প্রতি এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, তারা দ্রুত উচাখিলা কাচারি বাড়ির জায়গা সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণ ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করবেন। জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকলে স্থানীয়রা আরও উন্নত ভূমিসেবা পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একসময় যে কাচারি বাড়ি ছিল এ অঞ্চলের ভূমি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসস্থল এবং সাধারণ মানুষের ভূমিসেবা পাওয়ার অন্যতম আশ্রয়স্থল, কালের বিবর্তনে সেটিই এখন পরিণত হয়েছে অযত্ন-অবহেলার এক চিত্রে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দৃষ্টি নন্দিত সেই ঘর-বাড়ি এখন আর নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সীমানা নির্ধারণের পুরোনো পিলারগুলোর অনেকগুলোও দৃশ্যমান নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কাচারির সংলগ্ন বিভিন্ন অংশে গড়ে উঠেছে নানা স্থাপনা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোথাও দখল করে কাঠের ব্যবসা, কোথাও বসছে ছাগলের হাট। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অথচ, এই কাচারি বাড়িটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে উচাখিলা ও আশপাশের এলাকার দীর্ঘ ইতিহাস। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে উচাখিলা ইউনিযনের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্থানীয়দের ভাষায়, এটি যেন ‘বাতির নিচে অন্ধকার’।





