৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপ্রতিম মৃত্যুর ঘটনা মামলা: দুই কিশোর আসামিকে পাঠানো হচ্ছে

প্রকাশ:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে দুইজনকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। সোমবার সকালে অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই সাইফুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই কিশোর ফাহাদ ও কামরুলকে গাজীপুরের সংশোধনাগারে পাঠানো হচ্ছে। অন্য দুই আসামি তুহিন (১৯) ও সিয়াম (১৮) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারেই সাজা খাটবে বা থাকবে।

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান জানান, একটি হত্যা মামলায় রোববার রাতে চারজন আসামিকে পুলিশ তাদের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর আদালতের নির্দেশ মেনে সোমবার সকালে দুই কিশোর আসামিকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এর আগে রোববার বিকেলে আসামিদের কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতে হাজির করা হয়েছিল। বিচারকের খাসকামরায় সিয়াম ছাড়া বাকি তিনজন আসামি অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে।

আসামিদের পরিচয় ও উদ্ধার প্রক্রিয়া

  • সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) ও মো. সিয়াম (১৮) প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকবেন।
  • মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৬) ও কামরুল হাসান (১৫) অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে স্থানান্তরিত হচ্ছেন।

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে ১৩ বছর বয়সী কিশোর অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। ওই দিন বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে সে আর ফিরে আসেনি। এরপর তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ঘটনার পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি পাহাড়ি ঝোপ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এই চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

শেয়ার করুন