ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) তাদের মশা নিধন কার্যক্রমে ব্যবহৃত ম্যালাথিয়ন ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই করতে মাঠপর্যায়ে বিশেষ পরীক্ষা শুরু করেছে। বুধবার গাবতলীতে আয়োজিত এই পরীক্ষায় ঠিকাদারের সরবরাহকৃত ওষুধের ড্রাম থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে নমুনা সংগ্রহের জন্য অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। সারি করে সাজানো ড্রামগুলোর ওপর ইটের টুকরা ছুড়ে যে ড্রামটি নির্বাচন করা হয়েছে, সেখান থেকেই ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক কে এম কাওছার হোসেন, আইইডিসিআরের মেডিক্যাল অফিসার মাইনুল হাসান এবং ডিএনসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল হাসনাত মোহাম্মদ আশরাফুল আলম এই নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। সংগৃহীত নমুনাগুলো আলাদা তিনটি ফগার মেশিনে ভরে জালের বাক্সে আটকে রাখা কিউলেক্স মশার ওপর ধোঁয়া প্রয়োগ করা হয়। প্রতিটি বাক্সে ৫০টি করে মশা ছিল এবং ফগার মেশিন থেকে চার ফুট দূরত্ব বজায় রেখে মশককর্মীরা স্বাভাবিক গতিতে ধোঁয়া দেন।
প্রাথমিক নকডাউন পরীক্ষায় দেখা গেছে, ধোঁয়া দেওয়ার ২০ মিনিট পর অধিকাংশ মশাই নিস্তেজ হয়ে পড়েছে, যদিও একটি বাক্সে দুটি মশা তখনো উড়ছিল। তবে এই ফলাফল চূড়ান্ত নয়। ওষুধের প্রকৃত কার্যকারিতা বা মর্টালিটি টেস্টের জন্য আরও ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করা হবে। এই সময়ের মধ্যে মশাগুলোকে গ্লুকোজ মিশ্রিত খাবার দিয়ে আলাদা কক্ষে রাখা হবে। এছাড়া ওষুধের কার্যকারিতা তুলনা করার জন্য কীটনাশকবিহীন তিনটি নিয়ন্ত্রণ খাঁচাও রাখা হয়েছে।
ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানিয়েছেন, ঠিকাদার প্রথম ধাপে দুই লাখ লিটার ম্যালাথিয়ন সরবরাহ করেছে, যা ২০০ লিটারের এক হাজার ড্রামে সংরক্ষিত। এই ওষুধ ব্যবহারের আগে তিনটি ধাপের পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। মাঠপর্যায়ের এই পরীক্ষার পাশাপাশি আইইডিসিআর ল্যাবে বায়ো-ইফিক্যাসি পরীক্ষা এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ে ওষুধের সক্রিয় উপাদান ও রাসায়নিক গঠন যাচাই করা হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই ওষুধটি ব্যবহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, লার্ভা অবস্থায় শহরতলি থেকে সংগ্রহ করা মশা দিয়ে এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে, যাতে আগে থেকে কীটনাশকের সংস্পর্শে আসার কারণে ফলাফলে কোনো প্রভাব না পড়ে।





