১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৫ বছর পর ভারতে নিখোঁজ আনজু ফিরলেন মায়ের কোলে

প্রকাশ:

দীর্ঘ দেড় দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মায়ের কোলে ফিরে এলেন আনজু (৩৫)। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ১৫ বছর আগে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের ভোমরাদহ ইউনিয়ন থেকে নিখোঁজ হওয়া আনজু অজান্তেই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর অবশেষে বুধবার বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, প্রায় ১৫ বছর আগে তীব্র মানসিক অসুস্থতার শিকার হয়ে আনজু বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরতে ঘুরতে তিনি সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেন। ২০১৭ সালের দিকে কলকাতার পাবলভ মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার খোঁজ মেলে। পরবর্তী সময়ে কলকাতার মানবিক সহায়তা সংস্থা ‘ঈশ্বর সংকল্প’ তাকে নিজেদের আশ্রয়ে নিয়ে চিকিৎসা ও পরিচর্যার পাশাপাশি পরিবারের সন্ধানে কাজ শুরু করে।

আনজুর কাছ থেকে পাওয়া বিক্ষিপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে পরিচয় শনাক্তকরণের কাজ করেন অ্যামেচার রেডিও সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং রোটারি ক্লাব অব বনানী, ঢাকার সদস্য মো. শামসুল হুদা। প্রযুক্তি ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ে আনজুর পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহায়তায় জাতীয়তা যাচাই ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

ভারত সরকারের ইস্যু করা বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বুধবার বিকেলে বেনাপোল চেকপোস্টে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনজুকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান খান জানান, ইমিগ্রেশন ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন পর সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আনজুর মা আনোয়ারা বেগম (মতান্তরে জোসনা বেগম)। সীমান্তে তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা। এই আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হন উপস্থিত স্বজনরাও। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরিবারের সদস্যরা আনজুকে নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

শেয়ার করুন