১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো ইচ্ছা নেই: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ:

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান জানিয়েছেন যে, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা বর্তমান সরকারের নেই। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আন্দালিভ রহমানকে অভিনন্দন জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং ভুল তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আন্দালিভ রহমান জানান, সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) বিরোধী দলের সংবাদ প্রচারের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, সরকার স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ রক্ষায় বদ্ধপরিকর। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অপপ্রচারের বিস্তার রোধে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সক্রিয় থাকবে। বিগত ১৭ বছরের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সৎ উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে।

সাইবার সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী পুনরায় নিশ্চিত করেন যে, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রেখেই সরকার দায়িত্বশীল ও সৎ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ভুল তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এ সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ও এর প্রভাব নিয়ে কার্যকর উদ্যোগের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অপপ্রচারের ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তাই নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর সম্প্রসারণ ঘটছে। এছাড়া তিনি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অর্থনৈতিক সহায়তার কথা উল্লেখ করে জানান, স্বাস্থ্য খাতে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিশেষ সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

শেয়ার করুন