২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ায় জাল নথি তৈরির চক্রের সন্ধান, আটক ২৭ বাংলাদেশি

প্রকাশ:

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মীদের জন্য ভুয়া কাগজপত্র তৈরির একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৭ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। কুয়ালালামপুরের জালান চান সো লিন বাণিজ্যিক এলাকায় একযোগে চালানো অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইলের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মালয় মেইল জানিয়েছে, গত সোমবার ওই বাণিজ্যিক এলাকার ১১টি স্থানে একযোগে ‘অপস সেরকাপ’ নামের এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি পুরুষ এবং একজন নারীকে এই জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা বলে সন্দেহ করছে কর্তৃপক্ষ। অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, আটক ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে সরাসরি নথি জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। বাকি ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে। এছাড়া একই অভিযানে অভিবাসন আইন ভাঙার অভিযোগে মিয়ানমারের একজন এবং ইন্দোনেশিয়ার দুই নাগরিকসহ আরও তিন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে。

অভিযানস্থল থেকে জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত ১৮টি ল্যাপটপ, ২১টি প্রিন্টার ও স্ক্যানার, ৩টি মোবাইল ফোন এবং ১০টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ভুয়া অস্থায়ী কর্মসংস্থান পাস (টেম্পোরারি এমপ্লয়মেন্ট পাস) এবং জাল পুলিশ রিপোর্টের কপি উদ্ধার করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল জানান, চক্রটি প্রতিটি জাল কর্মসংস্থান পাস ১৫০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এবং ভুয়া পুলিশ প্রতিবেদন ৭০ রিঙ্গিতে বিক্রি করত। তিনি আরও বলেন, বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনা নিয়ে কারসাজি এবং নথি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ তাদের অভিযান আরও জোরদার করছে।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে যখন আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই এই বড় ধরনের অভিযান চালানো হলো। অনিয়ম এবং কর্মীদের শোষণের অভিযোগে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল মালয়েশিয়া। পরবর্তীতে শ্রমবাজারটি আবার চালুর বিষয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনা শুরু করেন। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি মালয়েশিয়া আরও ৩১২টি বাংলাদেশি এজেন্সিকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটিং এজেন্সি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর আগে দেশটির কেন্দ্রীয় বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থার অধীনে বোয়েসেলসহ (বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড) ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট তৈরি করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই ধরনের অনিয়মের অভিযোগে গত জুলাই মাসে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তথ্য অনুযায়ী, এসব এজেন্সি ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৬ জন কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিল। তারা সরকারি নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে ৪ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্মীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি-র চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি টাকা নেওয়ার প্রমাণও পেয়েছে দুদক।

শেয়ার করুন