৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার সঙ্গে পুতিনের ফোনালাপ নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা

প্রকাশ:

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের আবহে ভারতের আশ্রয়ে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রনেতার ফোনালাপ হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে দাবি উঠেছে। এর মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার কথোপকথনের বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

অনলাইনে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যে দাবি করা হয়েছে, ব্রিকস সম্মেলন চলাকালে পুতিন প্রায় ২০ মিনিট শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ওই সময় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এই ফোনালাপের বিষয়টি এখনও কোনো পক্ষ থেকে সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ভারত সরকার, রাশিয়া কিংবা শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি এবং কথোপকথনের কোনো বিবরণও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

দিল্লির একটি সাংবাদিক সূত্র জানিয়েছে, এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা না গেলেও বিষয়টি অসম্ভব নয়। কারণ, শাসনামলে হাসিনা অধিকাংশ রাষ্ট্রনেতার সঙ্গেই বিশেষ পরিচিত ছিলেন এবং অনেকের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলার সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি সর্বজনবিদিত।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শাসনামল থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। বিশেষ করে রাশিয়ার সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন বাংলাদেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর প্রকল্পটি দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পে রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রূপপুর প্রকল্প শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উপস্থিতির ক্ষেত্রেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই পুতিন-হাসিনা ফোনালাপের খবর সত্যি হলে তা রাশিয়ার বাংলাদেশ নীতি এবং হাসিনার রাজনৈতিক অবস্থানের ক্ষেত্রে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

ভারতের আরএসএস সমর্থিত সংবাদপত্র 'অর্গানাইজার'-এর ভাষ্য অনুযায়ী, এই ফোনালাপ রাশিয়ার স্বার্থের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মেলবন্ধন তৈরি করে, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে তাদের বিশাল বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা। এছাড়া, নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পরপরই বাংলাদেশের আকস্মিক পদক্ষেপ এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর বিষয়টিও কূটনৈতিক সমীকরণের নতুন দিক উন্মোচন করছে বলে পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে।

শেয়ার করুন