হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল বন্ধ থাকার বিষয়টি বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতি এবং ভূরাজনীতির অন্যতম প্রধান সঙ্কটে পরিণত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের এই কৌশলগত নৌপথটিতে অচলাবস্থা চলছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার ফলে এই সঙ্কট আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে।
পরিস্থিতিটি বর্তমানে এক ধরনের স্থবিরতায় আটকে আছে, যেখানে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ না হলেও পুরোপুরি উন্মুক্তও নয়। ইরান একে কৌশলগত চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। মার্কিন নৌবাহিনী একদিকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে, অন্যদিকে ইরান এই প্রণালীতে মার্কিন ও পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
ইরানের নতুন নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল কার্যকর হলে তা শিপিং কোম্পানিগুলোকে আরও সতর্ক করে তুলবে এবং তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য কূটনৈতিক সমাধানের কোনো বিকল্প নেই। ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যস্থতা এবং আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা উদ্যোগ এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বাংলাদেশসহ জ্বালানি আমদানিতে নির্ভরশীল দেশগুলোর জন্য এখন বিকল্প সরবরাহ রুট এবং জ্বালানি বৈচিত্র্যকরণ জরুরি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। মূলত, হরমুজ প্রণালীর এই চলমান সঙ্কট কেবল মধ্যপ্রাচ্যের নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যই এক বড় চ্যালেঞ্জ।





