প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম। পুরো রাজধানী যেন এখন অটোরিকশার নেটওয়ার্ক। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত সর্বত্রই তিন চাকার এই বৈদ্যুতিক যানের দাপট। ‘যেমন খুশি তেমন চল’ নীতিতে চলা এসব অটোরিকশার কারণে সড়কের শৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যানজট ও ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, যা কেড়ে নিচ্ছে অনেকের প্রাণ, আবার কাউকে কাউকে বরণ করতে হচ্ছে পঙ্গুত্ব।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রধান সড়কে চলাচলকারী এসব অটোরিকশা আটক করে চালকদের আর্থিক জরিমানা করছেন। তবে চালকদের অভিযোগ, তারা শুধু নির্দেশ পালন করছেন, আসল নেপথ্য কারিগররা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের দাবি, যদি অটোরিকশা বন্ধ করতেই হয়, তবে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, গ্যারেজ মালিক ও বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধুমাত্র ড্রাইভারদের মামলা দেওয়া অমানবিক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, অটোরিকশার পেছনে প্রান্তিক চালকদের নিজের বিনিয়োগ নেই। তিনি বলেন, অতীতে যেভাবে সিএনজি অটোরিকশা চালু হয়েছিল, ঠিক একইভাবে এখন প্রভাবশালীরা বিনিয়োগ করছেন। অনেকে অবৈধ কারখানা গড়ে তুলেছেন। এসব প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদের কাছ থেকেই চালকরা বেপরোয়া হওয়ার সাহস পান। তিনি আরও বলেন, প্রান্তিক মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতি সমর্থন থাকলেও সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কোনোভাবেই আপস করা যাবে না; বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এসব চালক বিনা পুঁজিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়কে নামছেন। তাদের নেই কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ কিংবা গাড়ির আইনি নিবন্ধন। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
মানিকনগর এলাকার গ্যারেজ মালিক মেহেদি জানান, আগে গ্যারেজ মালিকদের হাতে নিয়ন্ত্রণ থাকলেও এখন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অল্প পুঁজিতে বেশি লাভের আশায় অটোরিকশায় বিনিয়োগ করছেন। আরেক মালিক আব্দুল্লাহ বলেন, সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যসহ উচ্চবিত্তদের অনেকেরই এখন অটোরিকশা রয়েছে। এই ব্যবসা এখন আর সাধারণ গ্যারেজ মালিকদের হাতে নেই।





