পাঁচটি করবর্ষের বিপরীতে ৬০০ কোটির বেশি টাকা প্রদেয় কর দাবি ঘিরে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারের রাজস্ব বাবদ প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান হলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ। তিনি প্রথম আলোকে জানান, পাঁচটি করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা অনাদায়ি ছিল। প্রদেয় কর দাবি ঘিরে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণ দুটি রিট করেছিল। রিট দুটির চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত রুল ডিসচার্জ (রুল খারিজ) করে দিয়েছেন। রায় পাওয়ার পর ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট ৩০ দিন সময় দিয়ে দাবি আদায়ে নোটিশ ইস্যু করবে।
তবে গ্রামীণ কল্যাণের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবির বিরুদ্ধে রিট দুটি করা হয়েছিল। আদালত রুল খারিজ করে রায় দিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে বিস্তারিত জানা যাবে এবং রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাওয়ার পর আপিল করা হবে। আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে আরও শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও সরদার জিন্নাত আলী।
পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭—এই করবর্ষগুলোর জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি ঘিরে ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি পৃথক দুটি রিট করে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণসহ রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন। ওই রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করা হয় এবং বিলম্ব মার্জনা করে শর্তসাপেক্ষে আইন অনুসারে ৬০ দিনের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে আপিল (অতিরিক্ত কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে) করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পৃথক লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। পৃথক লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগ গ্রামীণ কল্যাণের করা ওই রিটের মূল বিষয়বস্তুর ওপর হাইকোর্টে পুনঃশুনানি করতে নির্দেশ দেন।
পুনঃশুনানি শেষে একই বছরের ৪ আগস্ট প্রথমে রিট দুটি খারিজ করে এবং পরে ২৯ আগস্ট তা প্রত্যাহার করে আদেশ দেন হাইকোর্ট। কারণ হিসেবে বলা হয়, দ্বৈত বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারক একসময় এসব মামলায় সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, যে কারণে রায়টি ত্রুটিপূর্ণ হবে। এরপর মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চে পাঠান। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে আজ রায় দেওয়া হলো।





