সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় এসেছিলেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। সফরকালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার প্রিয় খাবার ইলিশ ও গরুর মাংস খাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তার এই মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে নিয়ে ব্যাপক ট্রোল শুরু হয় এবং অনেকেই তাকে হুমকিও দেন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের একাংশ থেকে তার সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলা হয়, একজন হিন্দু অভিনেতা কীভাবে প্রকাশ্যে গরুর মাংস খাওয়ার কথা বলতে পারেন? কেউ কেউ তাকে কটাক্ষ করে বলেছেন, কলকাতায় ফিরলে তাকে ‘ডিম’ খাওয়ানো হবে, আবার কেউ কেউ তাকে বাংলাদেশেই স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
তবে এই বিতর্কের বিপরীতে অনেক ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষী বর্ষীয়ান অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের মতে, খাদ্যাভ্যাস সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় এবং এ নিয়ে অন্যের নাক গলানোর কোনো প্রয়োজন নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আজকাল ডট ইন-কে বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমার পেট, আমার মন, আমার হাত আর খাবার যে খাব সে জন্য যে টাকা খরচ হবে, সেটাও তো আমারই! তাহলে আমি কী খাব, কতটা খাব সেটা ঠিক করে দেবে অন্য কেউ? বললেই হলো নাকি?’
তিনি জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশে গিয়েছিলেন এবং ৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে এসেছেন। বোনের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে তিনি যে আতিথেয়তা পেয়েছেন তাতে তিনি অভিভূত। আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মামলা দায়ের করেছি। বিষয়টি যেহেতু আদালতের বিচারাধীন, তাই এর চেয়ে বেশি কিছু বলা সমীচীন হবে না।’
উল্লেখ্য, গরুর মাংস নিয়ে কোনো হিন্দু অভিনেতা বা পরিচিত মুখের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। এর আগে বলিউডের রণবীর কাপুর এবং কলকাতার জনপ্রিয় সঞ্চালিকা ও অভিনেত্রী সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ও একই ধরনের বিতর্কের সম্মুখীন হয়েছিলেন। সুদীপা তার একটি ইউটিউব সিরিজে বাংলাদেশের রান্না নিয়ে গরুর মাংস রান্নার দৃশ্য দেখিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।





