বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে প্রবাসীদের কাজে লাগানোর প্রস্তাব

প্রকাশ:

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশিরা নিউইয়র্কে সমবেত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই সফরকে সামনে রেখে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছেন প্রবাসী নেতারা।

ফ্লোরিডা স্টেট বিএনপির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমরানুল হক চাকলাদার দৈনিক আমাদের সময়কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে এবং তাকে স্বাগত জানাতে অসংখ্য নেতাকর্মী নিউইয়র্কে ছুটে যাবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সফরে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দেশের সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার সুযোগ মিলবে।

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটকে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে ইমরানুল হক চাকলাদার বলেন, সরকার এই সংকট সমাধানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মেধা, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ কাজে লাগাতে পারে। তিনি প্রস্তাব করেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মেধাবী বাংলাদেশিদের নিয়ে একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। শুধু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতই নয়, বরং দেশের অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রবাসীদের দক্ষতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিনিয়োগের পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হলেও আস্থার সংকট ও নিরাপত্তার অভাবে তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকায় প্রবাসীদের মধ্যে নতুন করে বিনিয়োগের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনেক প্রবাসী ১০০ মিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি বিনিয়োগের সক্ষমতা রাখেন। বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গেলে দেশে বড় পরিসরে শিল্পায়ন সম্ভব।

ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অর্থনীতি চাপে থাকায় প্রবাসীদের আস্থা ফেরাতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বিশেষ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় একজন অভিজ্ঞ বিশেষ দূত নিয়োগের বিষয়টি সরকারকে বিবেচনা করতে হবে।

জনশক্তি রপ্তানির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও ফার্মসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সরকার যদি দেশে ১০টি বিশেষায়িত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে কর্মীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারে, তবে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সম্ভব। পরিশেষে তিনি বলেন, সরকার ও প্রবাসীদের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক তৈরি হলে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

শেয়ার করুন