প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ২১
পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হয়েও তুরস্ক এখন চীন, রাশিয়া, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর করছে। আঙ্কারার এই নতুন কূটনৈতিক পথচলা কি দেশটিকে নতুন ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে নানা আলোচনা। তুরস্ক এখন আর কেবল পশ্চিমা জোটের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং বিভিন্ন শক্তিকেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজের কৌশলগত পরিসর বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
এর সাম্প্রতিক উদাহরণ হলো গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া এই চুক্তির মূল বিষয় হলো, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে তিন দেশের কর্মকর্তারা এই জোটের কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে একে ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। যদিও অনেকে একে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ বলছেন, তবে বাস্তব কাঠামোর দিক থেকে এটি ন্যাটোর সমতুল্য নয়। এর কার্যকর সামরিক সক্ষমতা বা যৌথ কমান্ডের বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই চুক্তি তুরস্কের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প, সৌদি আরবের জ্বালানি সম্পদ এবং পাকিস্তানের সামরিক শক্তির সমন্বয় ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তর পরিষ্কার করেছে যে, মক্কা চুক্তি ন্যাটোর বিকল্প নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার একটি পরিপূরক ব্যবস্থা। আঙ্কারা কোনো একটি শক্তিকেন্দ্রের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না থেকে বহুমুখী কূটনীতি বা কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার নীতি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সঙ্গেও সম্পর্ক বাড়াচ্ছে তুরস্ক। বর্তমানে ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে থাকলেও, সেপ্টেম্বরের শুরুতে এসসিও সম্মেলন থেকে ফেরার পথে প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান সংস্থাটির পূর্ণ সদস্য হওয়ার বিষয়টি বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এরদোয়ান সরকারের দৃষ্টিতে এই কৌশলগত দ্বৈততা তুরস্কের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, কৃষ্ণসাগর ও মধ্য এশিয়ার ভৌগোলিক সংযোগস্থল হিসেবে তুরস্ক নিজেকে বিভিন্ন শক্তিকেন্দ্রের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। তবে এই ভারসাম্য বজায় রাখা আঙ্কারার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ন্যাটো, এসসিও, রাশিয়া ও চীনের মতো পরস্পরবিরোধী স্বার্থের পক্ষগুলোর সঙ্গে একই সময়ে গভীর সম্পর্ক বজায় রাখলে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। তবুও, ভবিষ্যতের বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থায় তুরস্ক নিজেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘মিডল পাওয়ার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই এই বহুমাত্রিক কৌশল অবলম্বন করছে।





