আসামে ভুলবশত বাংলাদেশে পাঠানো নারীর স্বামীকে ২ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ

প্রকাশ:

আসামের এক নারীকে ভুলবশত জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়ার ঘটনায় তার স্বামীকে ২ লাখ রুপি অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন গৌহাটি হাইকোর্ট। মুমতাজ বেগম নামের ওই নারীকে বিদেশি হিসেবে ঘোষণা করে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের একটি আদেশ চ্যালেঞ্জ করে মামলা চলাকালীনই তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। বিচারপতি কল্যাণ রায় সুরানা ও বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খাউন্ডের বেঞ্চ গত ৩রা সেপ্টেম্বর এই নির্দেশ দেন।

আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, মুমতাজ বেগমকে ভারত থেকে বহিষ্কারের আগে তার স্বামী মুজাম্মেল হক বা পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে এ বিষয়ে কোনো তথ্যই জানানো হয়নি। এই প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে আদালত আসাম সরকারকে ৬০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মুজাম্মেল হক চাইলে দেওয়ানি আদালতে আরও ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন বলেও আদালত জানিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালে, যখন নগাঁওয়ের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল মুমতাজ বেগমকে বিদেশি হিসেবে ঘোষণা করে। মুমতাজ ১৯৭১ সালের আগের ভোটার তালিকায় তার দাদার নাম থাকার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র আদালতে দাখিল করেছিলেন। এ বছরের এপ্রিলে হাইকোর্ট ট্রাইব্যুনালের সেই আদেশ বাতিল করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিলেও, ৩০শে মে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার পর তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে মাতিয়া ডিটেনশন সেন্টারে রাখার পর বিএসএফের মাধ্যমে ১৪ই জুন তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

আদালত এই বহিষ্কারের ঘটনাকে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। পাশাপাশি, আসামের স্বরাষ্ট্র বিভাগকে এই পুরো ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে মামলার কার্যক্রমে যুক্ত করে মুমতাজ বেগমের অবস্থান শনাক্তকরণ ও তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

শেয়ার করুন