আজ ৮ সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে শিক্ষা ও স্বাক্ষরতার গুরুত্ব প্রচার করা এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণে জনসচেতনতা বাড়ানোই এই দিবসের মূল লক্ষ্য। ১৯৬৬ সালে ইউনেসকো ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাক্ষরতা কেবল অক্ষরজ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি পড়তে, লিখতে এবং প্রাপ্ত তথ্য সঠিকভাবে বুঝে তা কাজে লাগানোর সক্ষমতা তৈরি করে, যা একজন মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলে। দৈনন্দিন জীবনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নিজের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে স্বাক্ষরতা অপরিহার্য। তাই একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে স্বাক্ষরতাকে বিবেচনা করা হয়।
বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে শিক্ষার প্রসার ও স্বাক্ষরতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য মানসম্মত ও কার্যকর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে স্বাক্ষরতার ধারণাতেও পরিবর্তন এসেছে। শুধু পড়তে ও লিখতে জানাই এখন যথেষ্ট নয়; ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, অনলাইন তথ্য যাচাই, ভুল তথ্য শনাক্ত করা এবং নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহারের জ্ঞান আধুনিক স্বাক্ষরতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এটি মানুষের শিক্ষা, জীবনযাপন ও কর্মদক্ষতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবসের এই দিনে প্রত্যাশা—দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত হবে। ঝরে পড়া রোধের পাশাপাশি বয়স্ক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একটি সচেতন, দক্ষ ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে উঠবে। নিরক্ষরতামুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাই হোক এই দিবসের অঙ্গীকার।





