জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ড. খলিলুর রহমান

প্রকাশ:

বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এদিন জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের (UNGA) সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। দীর্ঘ ৪০ বছর পর এই গৌরবোজ্জ্বল পদটি পেল বাংলাদেশ। এর আগে ১৯৮৬ সালে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ৪১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেছিলেন।

গত ২ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রত্যক্ষ ভোটে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি (UNGA President) নির্বাচিত হন। তিনি সাইপ্রাসের প্রার্থীকে পরাজিত করে ৯৯টি ভোট পেয়ে এই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন। আজ অধিবেশন শুরুর দিনে ৮০তম অধিবেশনের সভাপতি বিদায় নেন এবং ড. খলিলুর রহমান উদ্বোধনী হাতুড়ি (Gavel) চাপার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ৮১তম অধিবেশনের সূচনা করেন। এরপর তিনি সভাপতি হিসেবে তার উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন।

আগামী এক বছর (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৭) বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতির সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল কেন্দ্রে বা ড্রাইভিং সিটে থাকবে। সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে জাতিসংঘের ‘প্রধান মডারেটর’ বা পরিচালক বলা চলে। এই সময়ের মধ্যে জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হবে এবং নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়াটিও ড. খলিলুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হবে। এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা সংকট এবং বিশ্বজুড়ে মানবিক সংকট নিরসনে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা ও সংলাপের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দেবে।

বাংলাদেশ এই অধিবেশনকে দেশের ব্র্যান্ডিং ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ‘ক্ষয়ক্ষতি তহবিল’ (Loss and Damage Fund) নিশ্চিত করা এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বার্থরক্ষায় কাজ করার সুযোগ পাবে ঢাকা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন এবং ২২ সেপ্টেম্বর সাধারণ সভায় ভাষণ দেবেন। এটি তার জাতিসংঘে প্রথম ভাষণ হবে, যেখানে তিনি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতির দর্শন তুলে ধরবেন। এছাড়া তার উপস্থিতিতে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের সাইড-ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। শান্তিরক্ষা মিশন থেকে শুরু করে বৈশ্বিক কূটনীতি—সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা বিশ্বপর্যায়ে আরও দৃঢ়ভাবে স্বীকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আজ সাধারণ পরিষদের প্রথম কার্যদিবসেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আগামী এক বছরের এজেন্ডা নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

শেয়ার করুন