প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংঘাত, সংঘর্ষ কিংবা প্রতিশোধের পথ পরিহার করে ভালোবাসার মাধ্যমে একটি সুন্দর ও সত্যিকার সমাজ গড়ে তুলতে হবে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই ছিল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তপাতের পর গণতন্ত্রের জন্য দেশ এক নতুন পথচলার সুযোগ পেয়েছে। এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, তবে সংঘাতের পরিবর্তে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চা করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সহিষ্ণুতা। বিভেদ ভুলে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিজ নিজ অধিকার নিয়ে বাঁচার পরিবেশ আমাদেরই তৈরি করতে হবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ঠাকুরগাঁওয়ের আঞ্চলিক ভাষায় উপস্থিত জনতার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি। তিনি স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মুই জানু তোমরা মোক ভালবাসেন। সুতরাং যতক্ষণ কাঁতা কহিম, তোমরা শুনিবেন।’
এলাকার সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাষ্ট্রপতি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে ঘোষিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুতই শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি ঘোষণা দেন, আগামীকালই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এছাড়া জেলা পর্যায়ে মেডিকেল কলেজ, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ নির্মাণ, আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন এবং শিবগঞ্জ বিমানবন্দর পুনরায় চালু করার বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।
স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান বাড়াতে কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন রাষ্ট্রপতি। যুবসমাজের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শুধু চাকরি বা ঠিকাদারির ওপর নির্ভর না হয়ে নিজেরা উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
নিজের শৈশব ও জন্মভূমির স্মৃতি স্মরণ করে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পংক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক।’ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মঞ্চে উপস্থিত মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বিশিষ্ট নাগরিকদের ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ স্থানীয় রাজবংশী ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন তিনি। এছাড়া দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অকুতোভয়ে পাশে থাকার জন্য নিজের সহধর্মিণীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।





