দুই সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতির আশা প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশ:

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আশাবাদের কথা জানান। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে জনগণের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতিতে মানুষের কষ্টে আমরা সমব্যথী।

গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, একটি এফএসআরইউ মেরামতের পরও সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তবে এরই মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি ১২ শতাংশ দ্রুত স্বাভাবিক করার কাজ চলছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রসঙ্গে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে নেই। বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় কয়লাবাহী লাইটারেজ আনা যাচ্ছে না, তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে কয়লা সরবরাহ সহজ হবে এবং তখন এই কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরবে। এছাড়া অতিবৃষ্টির কারণে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রেও কিছু সমস্যার কথা তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের প্রত্যাশা অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের এক বিলিয়ন ডলার অর্থায়নে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ সংক্রান্ত চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ক্রুড অয়েল পরিশোধন সক্ষমতা তিন গুণ বৃদ্ধি পাবে এবং বছরে প্রায় ৪৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা সম্ভব হবে। এটি দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ৫০ শতাংশের বেশি মেটাতে সক্ষম হবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদিও ডিপিপি অনুযায়ী ২০৩০ সালে প্রকল্পটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে, তবে সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই এর কাজ শেষ করার চেষ্টা করছে।

শেয়ার করুন