নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২২৫, নিখোঁজ ৪৭৫৭

প্রকাশ:

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে আঘাত হানা স্মরণকালের ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে ১২২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা চলমান থাকলেও প্রায় ৪,৭৫৭ জন এখনো নিখোঁজ থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বহু বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

২৬ অগাস্ট স্থানীয় সময় সকাল ৮টার কিছুক্ষণ পর নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমালয়ের লেন্দে উপত্যকায় পাশের লাংটাং লিরুং পর্বতের হিমবাহের একটি বিশাল অংশ নিচের লেন্দে খোলা নদীতে আছড়ে পড়ে। এই আকস্মিক ঘটনার ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ হড়পা বান নিম্নপ্রবাহের ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী হয়ে নেমে এসে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোর শহর ও উপত্যকাগুলো ভাসিয়ে নিয়ে যায়। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে এটিকে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে রেকর্ড করলেও, পরে তা সংশোধন করে হিমবাহ ধসের কারণেই এই ভূকম্পন ঘটেছে বলে নিশ্চিত করে।

নেপালের উত্তরাঞ্চলে এই তীব্র গতির হড়পা বানে ৪১টি কংক্রিটের সেতু পুরোপুরি ভেসে গেছে এবং আরও চারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নুয়াকোট জেলায়ই ১২৬৭টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং ১২৫৩টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনের গণমাধ্যম চায়না ডেইলির তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত সীমান্তে নিহতের সংখ্যা ২১ জনে দাঁড়িয়েছে এবং সেখানে এখনো ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই দুর্যোগের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, জলবায়ু সমস্যাটি আন্তর্জাতিক মহলে জোরালোভাবে উত্থাপন করা উচিত। এদিকে, উদ্ধারকারীরা প্রতিকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টির মধ্যেই ভোতেকোশি নদীর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা পড়া কর্মীদের উদ্ধারের জন্য আবর্জনার স্তূপ পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আটকা পড়াদের জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

শেয়ার করুন