পাঁচটি সংকটাপন্ন ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানতকারীদের টাকা উত্তোলনের আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার এই কার্যক্রমের প্রথম দিনে ১৮ হাজার গ্রাহক তাঁদের জমাকৃত অর্থ ফেরত চেয়ে আবেদন করেছেন। ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, আবেদনকারী গ্রাহকেরা সব মিলিয়ে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।
বর্তমানে একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক—শাখা ও উপশাখাগুলোতে গ্রাহকদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা গ্রাহকদের আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা করছেন। নিয়ম অনুযায়ী, গ্রাহকদের নিজ নিজ শাখা বা উপশাখায় উপস্থিত হয়ে আবেদন জমা দিতে হচ্ছে। জমা দেওয়া আবেদনগুলো যাচাই–বাছাই সাপেক্ষে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের অর্থ এবং মেয়াদি আমানতের মূল টাকা তোলার সুযোগ পাবেন। তবে এই সুবিধার আওতায় কোনো গ্রাহক আমানতের বিপরীতে অর্জিত মুনাফা বা প্রাপ্য মুনাফা পাবেন না। যদি কোনো গ্রাহক তার মূল টাকা তুলে নেন, তবে সংশ্লিষ্ট আমানতের ক্ষেত্রে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। এছাড়া, গ্রাহকের যদি সংশ্লিষ্ট হস্তান্তরকারী ব্যাংকের কাছে কোনো ঋণ বা দায় থাকে, তবে টাকা ফেরতের আগে আমানতের অর্থ থেকে তা সমন্বয় করে নেওয়া হবে।
যেসব গ্রাহক এখনই আমানত তুলবেন না এবং হিসাব চালু রাখবেন, তারা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হারে মুনাফা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির আগে টাকা তুললে মূল টাকা পাওয়া গেলেও মুনাফা পাওয়া যাবে না। কোনো গ্রাহক আংশিক টাকা তুললে অবশিষ্ট অর্থের ওপর নিয়ম অনুযায়ী মুনাফা পাওয়ার সুযোগ বজায় থাকবে।





