সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ

প্রকাশ:

সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে দলের দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকাল থেকে পৌর সদর ও এর আশপাশের এলাকায় মিছিল, গাড়িবহরে বাধা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের মতো উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ জন নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্যমতে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে যোগদানের উদ্দেশ্যে সকাল থেকেই বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা থেকে মিছিল ও গাড়িবহর নিয়ে এলকে সিদ্দিকী স্কয়ারের সমাবেশস্থলের দিকে আসছিলেন নেতাকর্মীরা। বাড়বকুণ্ড ও বাঁশবাড়িয়া এলাকায় মিছিল ও গাড়িবহরে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয় এবং এসময় নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। এরপর পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ করে দেন। এছাড়া সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে। আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের দাবি, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা মো. সোহাগ এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। অন্যদিকে, কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা দাবি করেন, কাজী সালাউদ্দিনের ছোট ভাই মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এসব ঘটনা তাদের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই ঘটানো হয়েছে।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে বাঁশবাড়িয়া পয়েন্টে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কাঠ ও বাঁশ ফেলে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে এবং প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট ছড়িয়ে পড়ে। বারো আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ওসি মিল্টন জানান, একটি পক্ষ মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। প্রায় আধা ঘণ্টা মহাসড়ক পুরোপুরি বন্ধ থাকার পর সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ, জেলা পুলিশ ও র‌্যাব-৭ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যারিকেড সরিয়ে নিলে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

উত্তেজনা ও সংঘর্ষের মধ্যেই বিকেলে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের এলকে সিদ্দিকী স্কয়ারে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদরের সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলার ওপর জোর দিয়ে বলেন, সীতাকুণ্ডের মাটিতে কোনো উপদলীয় স্বার্থ, অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা কিংবা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা সহ্য করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে যারা সংঘাত সৃষ্টি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ৩৭আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ৪৭

শেয়ার করুন