প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ২৩। সরকারি কর্মজীবীদের জন্য ঘোষিত নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি এই সুবিধা প্রাপ্তদের অভিনন্দন জানালেও, বেতন-ভাতাকাঠামো বাস্তবায়নের একটি পূর্বশর্ত জুড়ে দেওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে। টিআইবি মনে করে, সরকারি কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয়-ব্যয়ের হিসাব বাৎসরিক ভিত্তিতে হালনাগাদ করা ও তা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশের আর্থিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিন ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক। তিনি আরও বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন-ভাতা না থাকলে সরকারি কর্মীদের কাছ থেকে দুর্নীতিমুক্ত সেবা ও পেশাগত উৎকর্ষ আশা করা কঠিন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জনগণের করের টাকায় বেতন বৃদ্ধির সুফল পেতে হলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। যারা প্রতিবছর তাদের আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাব হালনাগাদ করে প্রকাশ করবেন, কেবল তাদের জন্যই নতুন বেতন-ভাতা প্রযোজ্য হওয়া উচিত। যারা এটি করতে ব্যর্থ হবেন, তাদের জন্য নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা অনুচিত। এটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি খাতে দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে সংস্থাটি মনে করে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও উল্লেখ করেন, অনেক সরকারি কর্মী সৎভাবে দায়িত্ব পালন করেন, যাদের জন্য এই বেতন বৃদ্ধি ন্যায়সঙ্গত। তবে যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জনে লিপ্ত, তাদের জন্য এই সুবিধা অযৌক্তিক। কার্যকর জবাবদিহির উপায় নিশ্চিত না করে বেতন বাড়ানো হলে সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
২০১৫ সালের অষ্টম পে-স্কেলের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তখন বেতন বৃদ্ধির পরেও সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও অনিয়ম কমেনি বরং বেড়েছে। এবার সেই পরিস্থিতির ব্যতিক্রম ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া বেতন বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি সম্পর্কেও সরকারকে দূরদর্শী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।





