কক্সবাজার পর্যটন জোনের শরণ আবাসিক প্রকল্পে অবস্থিত ‘সাগর কান্তা গেস্ট হাউস’ নিয়ে চাঞ্চল্যকর প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে ভাড়াটিয়া নজিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর বাসিন্দা ফরিদুল আলমের মালিকানাধীন এই গেস্ট হাউসটিকে কেন্দ্র করে নজিরুল ইসলাম অবৈধ দেহব্যবসা ও ইয়াবা ব্যবসার মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মালিক ফরিদুল আলম ইতোমধ্যেই নজিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং আমানত খেয়ানতের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত প্রায় ১৬-১৭ বছর আগে, যখন প্রবাসে থাকা ফরিদুল আলম তার বন্ধু নজিরুলকে বিশ্বাস করে গেস্ট হাউসটি পরিচালনার দায়িত্ব দেন। ২০১৭ সালে প্রথমবার বার্ষিক ৫ লাখ টাকা ভাড়ার চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়। শর্ত ছিল, পরবর্তী প্রতি বছর মূল ভাড়ার সাথে ৫০ হাজার টাকা করে যোগ হবে। অভিযোগ রয়েছে, এই বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে নজিরুল দীর্ঘ সময় গেস্ট হাউসটি নিজের কবজায় রেখে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে গেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিকবার প্রতিবেদন প্রকাশের পরও নজিরুল দখল ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান।
চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সালে শেষ হওয়ার পরও নজিরুল বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রভাব ও লাঠিয়াল বাহিনী ব্যবহার করে গেস্ট হাউসটি দখলে রাখার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ছয় মাসের একটি বিশেষ চুক্তি করা হয়, যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে আর নতুন কোনো চুক্তি করা হবে না এবং বকেয়া ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু বকেয়া পরিশোধ না করে মালিকের স্বাক্ষর জাল করে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ভাড়ার মেয়াদ বাড়ানোর নতুন স্ট্যাম্প ও চুক্তিপত্র তৈরির অভিযোগ ওঠে নজিরুলের বিরুদ্ধে।
গত ১৩ আগস্ট একটি সালিশি বৈঠকে জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসার পর নজিরুলকে দখল ছাড়তে হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, চলে যাওয়ার আগে রাতের আঁধারে তিনি গেস্ট হাউসের টেলিভিশন ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ২৫ আগস্ট নজিরুল ইসলাম উল্টো মালিক ফরিদুল আলমের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তার দাবি, তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং তার মোটরসাইকেল ও চেক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনি জেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেন, যেখানে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে কৌশলে স্থান ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
মালিকপক্ষের দাবি, নজিরুল পর্যটকদের টার্গেট করে পতিতা ও হিজড়াদের মাধ্যমে তাদের গেস্ট হাউসে এনে সর্বস্ব ছিনিয়ে নিতো, আবার কখনো ইয়াবা দিয়ে প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতো। যদিও নজিরুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।





