সারা দেশে লুণ্ঠিত এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে সরকার একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ মিলনায়তনের সামনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। পুলিশের ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়ার পর তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির এবং ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করবেন, তাদের আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে। পুরস্কারের পরিমাণ ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, তথ্যদাতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
পুরস্কারের বিভাজন সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ভারী অস্ত্র উদ্ধারের খবর দিলে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কৃত করা হবে। এ ছাড়া পিস্তল, রিভলবার ও শটগান উদ্ধারের তথ্য দিলে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। সাউন্ড গ্রেনেড, লুণ্ঠিত টিয়ার গ্যাসের সেল এবং অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধারের ক্ষেত্রে গুরুত্বভেদে ১০ হাজার, ১৫ হাজার বা ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স সাপোর্ট নিয়ে ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে এবং এই কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশজুড়ে অবৈধ অস্ত্র, মাদক চোরাচালান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব অস্ত্রের লাইসেন্স জমা দেওয়া হয়নি, সেগুলোকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করে ইতিমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এগুলো উদ্ধারেও অভিযান চলবে। সীমান্ত পেরিয়ে চলে যাওয়া অস্ত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, অন্য দেশের সীমানায় গিয়ে পুলিশ অপারেশন চালাতে পারে না, তবে দেশের ভেতরে যেসব অস্ত্র পাওয়া যাবে, তা অবশ্যই উদ্ধার করা হবে।





