তারেক রহমানকে বন্দি করা ছিল গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ: রিজভী

প্রকাশ:

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তারেক রহমান যখন রাজনীতিতে নবীন ছিলেন, তখনই তাকে বন্দি করার মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে কোমর সোজা করে দাঁড়াতে না দেওয়া। তিনি দাবি করেন, তারেক রহমান ও খালেদা জিয়াকে বন্দি করা কোনো সাধারণ ঘটনা বা কেবল দেশীয় ষড়যন্ত্র ছিল না; এটি ছিল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের একটি যৌথ বহিঃপ্রকাশ।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সততা, নিষ্ঠা, পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতিকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার ঐতিহাসিক অর্জনের সফলতার পতাকাই তারেক রহমান বহন করছেন।

অতীতের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দুর্ভিক্ষ, লুটপাট ও বিরোধী দল দমনের মাধ্যমে মানুষকে যে রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে জিয়াউর রহমানই গণতন্ত্রের অবারিত দ্বার উন্মুক্ত করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, তারেক রহমানের ওপর শুধু কারাবন্দি করার মানসিক নির্যাতনই চালানো হয়নি, তাকে শারীরিকভাবেও নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে, যার ক্ষত তিনি আজও বহন করছেন।

তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, ২০১৮ সাল থেকে তিনি গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করছেন। শেখ হাসিনার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মী ও গুম-হত্যার শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে অনেক অপপ্রচার চালানো হলেও তিনি দেশের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি নিষ্ঠার সঙ্গে পূরণ করে যাচ্ছেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, তৎকালীন ওয়ান-ইলেভেন সরকার ও পরবর্তী সময়ে নির্যাতনের শিকার হলেও তারেক রহমান প্রতিশোধ নিতে চান না। রুমন আরও বলেন, সেই দুঃসময়ে কর্মসূচির স্থান-কাল নিরাপত্তার স্বার্থে গোপন রাখতে হতো, তবুও প্রতিকূলতার মাঝে সংবাদকর্মীরা তাদের ভীষণভাবে সহযোগিতা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের পতনের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে জনগণই সব ক্ষমতার উৎস।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর হেলাল। এছাড়া সভায় উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের নেতাকর্মী এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ৩৩আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ৩৬

তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলে গিয়েছিলেন, এ দেশের জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। বাংলাদেশের ইতিহাস বারবার সেই কথার সত্যতা প্রমাণ করেছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার মতো স্বৈরাচারের পতনের মধ্য দিয়ে এ দেশের জনগণ আবারও প্রমাণ করেছেন, সব ক্ষমতার মালিক তারাই।

শেয়ার করুন