নিউ জার্সিতে স্পেন-আর্জেন্টিনা মহারণ: ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে তিন দ্বৈরথ

প্রকাশ:

বিশ্বফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরার লড়াইয়ে আজ রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালটি মূলত দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের মেলবন্ধন। একদিকে স্পেনের নিখুঁত পাসিং, উইংয়ের গতি ও ট্রানজিশন; অন্যদিকে আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞতা, ট্যাকটিক্যাল দক্ষতা এবং কঠিন সময়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ‘মেসি ম্যাজিক’। এই মহারণে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে তিনটি খেলোয়াড়ভিত্তিক দ্বৈরথ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা ৩৯ বছর বয়সি লিওনেল মেসি টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত আট গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন। ২১ গোল নিয়ে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। সেমিফাইনালে তার দুটি অ্যাসিস্ট আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছে। তাকে আটকানোর মূল দায়িত্ব থাকবে স্পেনের রক্ষণের নেতা এমেরিক লাপোর্তের ওপর। তরুণ পাউ কুবারসিকে সঙ্গে নিয়ে লাপোর্তে পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করেছেন। লাপোর্তের পজিশনিং ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মেসির লড়াইটিই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে।

মাঝমাঠের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবেন স্পেনের রদ্রি ও আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ। রদ্রি টুর্নামেন্টে ৬৪৮টি সফল পাস দেওয়ার পাশাপাশি ৮৩ হাজার ৮০২ মিটার দৌড়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙার কাজ করছেন। অন্যদিকে, এনজো ফার্নান্দেজ ৪৩টি ফোর্সড টার্নওভারের মাধ্যমে রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি নকআউট পর্বে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলকে বাঁচিয়েছেন। এই দুই মিডফিল্ডারের লড়াইয়ে যে জিতবে, ট্রফি তার দিকেই হেলে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

আক্রমণভাগে স্পেনের ১৭ বছর বয়সি বিস্ময় লামিনে ইয়ামাল তার গতি ও ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের কোণঠাসা করে রাখছেন। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে পেনাল্টি আদায়েও তার ভূমিকা ছিল। ফাইনালে ইয়ামালের এই অতিমানবীয় গতি রোখার কঠিন দায়িত্ব থাকবে ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ লেফট ব্যাক নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর ওপর। তাগলিয়াফিকোর রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা ও পজিশনিং সেন্সের ওপরই নির্ভর করবে স্পেনের ডান প্রান্তের আক্রমণ কতটা কার্যকর হবে। সব মিলিয়ে কাগজ-কলমে শক্তির বিচারে সমানে সমান দুই দলের এই তিন দ্বৈরথই নির্ধারণ করবে ২০২৬ বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি কার ঘরে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন