ইউরোপে প্রবেশের আশায় স্পেনের সিউতা সীমান্তে হাজারো অভিবাসীর ঢল নেমেছে। সীমান্ত ভেঙে দলবেঁধে প্রবেশের চেষ্টার সময় হুড়োহুড়ি ও পদদলিত হয়ে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। এই সংকট মোকাবিলায় সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে স্পেন। সিউতা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার অভিবাসী ওই অঞ্চলে প্রবেশ করেছেন। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় অনুযায়ী, আরও কয়েকশ মানুষ সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
পরিস্থিতি বিবেচনায় সিউতার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হেসুস ভিভাস অঞ্চলটিতে ‘সম্পূর্ণ মানবিক ও সামাজিক জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সেনা মোতায়েনের আহ্বান জানানো হয়। পরবর্তীতে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে সশস্ত্র বাহিনীর ৬০ সদস্য মোতায়েন করা হবে। তবে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি নাকচ করে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির আইন অনুযায়ী অভিবাসন সংকটকে জাতীয় জরুরি অবস্থার আওতাভুক্ত করা যায় না। যদিও পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, অনেক অভিবাসী মরক্কো থেকে সমুদ্রপথে ভাসমান নৌযান ও ফোলানো টিউব ব্যবহার করে সিউতায় পৌঁছাচ্ছেন। সীমান্তে প্রবেশের সময় তাদের অনেককে ‘ভিভা এসপানিয়া’ বা ‘স্পেন দীর্ঘজীবী হোক’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এছাড়া অনেকে সীমান্তের উঁচু বেড়া টপকে স্থলপথেও প্রবেশের চেষ্টা করছেন।
অভিবাসী অধিকারকর্মী জাকারিয়া জাররোকি রয়টার্সকে জানান, বর্তমান পরিস্থিতি ২০২১ সালের মে মাসের ঘটনার সাথে তুলনীয়, যখন কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় ১০ হাজার মরক্কান ও সাব-সাহারান অভিবাসী সিউতায় প্রবেশ করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং মরক্কোর ফনিদেক শহরে এখনও বহু মানুষ সীমান্ত পার হওয়ার অপেক্ষায় জড়ো হচ্ছেন।
উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত সিউতা ও মেলিয়া স্পেনের দুটি স্বয়ত্তশাসিত শহর। এই অঞ্চল দুটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে আফ্রিকার একমাত্র স্থলসীমান্ত হওয়ায় ইউরোপে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। সম্প্রতি স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে বলা হয়েছে, সমুদ্রপথে সিউতা বা মেলিয়ায় প্রবেশের চেষ্টাকালে আটক অভিবাসীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না। স্পেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনী গার্দিয়া সিভিলের মতে, ওই রায়ের পর থেকেই সীমান্তে অভিবাসীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, মানবপাচারকারী চক্র আদালতের এই রায়কে পুঁজি করে অনিয়মিত অভিবাসনে মানুষকে উৎসাহিত করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরক্কোর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে স্পেন এবং সরেজমিনে পর্যালোচনা করতে শুক্রবার স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কারের সিউতা সফরের কথা রয়েছে।





