দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকায় আয়োজিত ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশবাসীকে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দেশের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।
বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগকারীরা তখনই কারখানা স্থাপনে আগ্রহী হবেন, যখন দেশে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, মিল-কারখানার পণ্য পরিবহন ও কাঁচামাল আমদানির জন্য রাস্তাঘাট ও সার্বিক ব্যবস্থায় শান্তি থাকা জরুরি। বিশৃঙ্খলা থাকলে কারখানা চালানো সম্ভব নয় এবং এর ফলে কর্মসংস্থানের পথও রুদ্ধ হয়ে যাবে।
শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সন্তানদের সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে স্কুল-কলেজের উন্নয়ন ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য দেশে স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। তিনি জনগণকে বিভ্রান্তকারীদের চক্রান্তের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, বিভ্রান্তকারীরা সুযোগ পেলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে সারাদেশে প্রায় ৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের পর পাইলট প্রকল্পের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। মায়েদের স্বাবলম্বী করে তোলা এবং সংসারের হাল ধরতে সহায়তার উদ্দেশ্যে এই ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মিরসরাই থেকে মাতারবাড়ি পর্যন্ত বিভিন্ন শিল্প কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
বাঁশখালীতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ১০০টি অসচ্ছল পরিবারের মাঝে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থের এই ঘরগুলোতে দুটি কক্ষ ও সংযুক্ত শৌচাগার রয়েছে, যা উপকূলীয় দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় আরসিসি পিলার, কাঠ ও টিন দিয়ে তৈরি। একই অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও শিশুকে আর্থিক সহায়তা এবং বন্যাদুর্গত ২০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। আজ সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে পৌঁছায়। এর আগে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে রওনা হয়ে প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁও বিমানবন্দরে যান এবং সেখান থেকে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে হেলিকপ্টার যোগে মাতারবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা ২টায় ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত এবং বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে যোগদানের পর সন্ধ্যায় সাংগঠনিক সভায় অংশ নিয়ে রাত ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সমগ্র বাংলাদেশে এই বছর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আমরা প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ড ইনশা আল্লাহ তুলে দেব।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, লক্ষ্য ছিল, ভাইদের পাশাপাশি যাতে বোনেরাও সংসারের হাল ধরতে পারে।





