রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি তড়িঘড়ি করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ও ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএসে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি দাবি করেন, এই নির্বাচনের ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং এখানে অন্য কিছু হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।
অলি আহমদ বলেন, সংসদ সদস্যরা তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি, কারণ এটি একটি নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র। তিনি অভিযোগ করেন, দলীয় নির্দেশনার বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলের মতামতের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্যপদ হারানোর ভয় থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাদের ৩১ দফা অনুযায়ী এই অনুচ্ছেদ তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অলি আহমদ বলেন, ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিএনপি কেন তড়িঘড়ি করে এই আয়োজন করেছে, তা বোধগম্য নয়। তার ধারণা, সংবিধান সংশোধনের আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করে প্রার্থী জয়ী করার লক্ষ্যেই হয়তো এই দ্রুততার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানান, বিভিন্ন সংস্থার জরিপে ৬৮ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ তার পক্ষে মত দিয়েছিলেন, যেখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ছিল ২৮ থেকে ৩০ শতাংশ। ৩৫০ সদস্যের সংসদে ৩৪৩ জন ভোট দিয়েছেন, যেখানে মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে এলডিপি সভাপতি বলেন, বঙ্গভবনে তিনটি মাজার ও একটি মসজিদ আছে। এসব মাজার জিয়ারত এবং মসজিদে নামাজ পড়া ছাড়া রাষ্ট্রপতির স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নেই। তবে তিনি আগামী দিনে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে সুশাসন ও জবাবদিহির জন্য অনেক ছেলেমেয়ে জীবন দিয়েছেন। সব ক্ষেত্রে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে দেশের মানুষ সুখ-শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সবশেষে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ধন্যবাদ জানিয়ে অলি আহমদ বলেন, ‘একসঙ্গে অনেক দিন কাজ করেছি; আপনার কাছ থেকে আমরা কিছু ভালো জিনিস আশা করি। সব জিনিসের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করবেন, এটাই প্রত্যাশা।’ তিনি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে জনদুর্ভোগ লাঘব এবং সুশাসন ও সুবিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
৩৫০ সদস্যের সংসদে এখন সংসদ সদস্য আছেন ৩৪৯ জন।





