মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাসিম হত্যায় বন্ধুর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ:

মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ শিক্ষার্থী নাসিম আহাম্মদ ইমাদ উদ্দিন হত্যা মামলায় তার বন্ধু আসিফ শিকদারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তার এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার রায় ঘোষণার সময় আসামি আসিফ পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী তানজীল হোসেন ভূঁইয়া।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে পূর্ব বাড্ডা পোস্ট অফিস গলিতে জনৈক মনিরের ফ্লেক্সিলোডের দোকানের সামনে লোকজন খেলা দেখা নিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল। নাসিম তাদের শব্দ করতে নিষেধ করলে রমজান নামে এক ব্যক্তি জানায়, তারা টিভিতে খেলা দেখা নিয়ে বাজি ধরছে। নাসিম তাদের বাজি ধরতে এবং চিৎকার-চেঁচামেচি করতে নিষেধ করলে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে আসিফ রমজানকে চড় মারেন। বিষয়টি নিয়ে রমজানরা আসিফের বাসায় গিয়ে হুমকি দিয়ে আসে এবং আসিফও তাদের ফোন করে হুমকি দেন।

পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাজার করতে বের হওয়ার সময় বাসার নিচে আসিফ নাসিমকে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় নাসিম দৌড়ে বাসার নিচে গিয়ে পড়ে যান। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার দিনই নাসিমের বাবা গ্রীন ডেল্টা ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের ডেপুটি ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী আহাম্মদ সাইফুদ্দিন বাড্ডা থানায় আসিফ, রমজান, আব্দুর রশীদসহ অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর গুলশান জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আব্দুস সোবহান আদালতে আসিফকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি আদালত আসিফের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। বিচার চলাকালে মোট ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন