তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জন এবং নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকার এক নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। সরকার মনে করছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতৃত্ব বাছাইয়ের পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমবে এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া এটি এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিক সমস্যার প্রতি জনপ্রতিনিধিদের দায়বোধকে আরও সুদৃঢ় করবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরুর পর থেকেই স্থানীয় নেতাদের মধ্যে এক ধরনের দায়বোধ তৈরি হয়েছে। তারা নিজ উদ্যোগে রাস্তাঘাট মেরামত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করছেন। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকছে না। ফলে ভোটাররা প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা এবং এলাকার মানুষের জন্য তার ভূমিকা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবেন। দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয়ভাবে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রার্থী থাকতে পারেন, তবে এটি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এজন্য প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের প্রাথমিক প্রস্তুতি চলছে। সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপ, ১৩ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ধাপ, ৩০ ডিসেম্বর তৃতীয় ধাপ, আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপ, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ ধাপ এবং ২৭ মে সপ্তম ধাপের ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত দিন-তারিখ ঘোষণা করা হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে। তিনি আরও বলেন, ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব নিলে জনগণের প্রতি তাদের দায়বোধ বাড়বে এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভোটারদের সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হবে। এদিকে, ক্ষমতাসীন দলও নির্বাচনে ভালো ফল করার লক্ষ্যে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।





