নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই দুর্যোগে এখনো চার শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বিদেশি নাগরিক। তিব্বত অঞ্চলেও এই ভূমিধসের প্রভাবে তিনজনের মৃত্যু এবং অন্তত ২৬৫ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর একে নেপালের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
চক্র দেব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বরাল জানান, কাদার বিশাল স্রোত সোজা তাদের দিকে ধেয়ে আসছিল। ভূমিধসের সময় তিনি তাঁর স্ত্রীর হাত ধরে ছাদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কাদার স্রোত তাঁর স্ত্রীকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। কোনোমতে ছাদে উঠে বেঁচে যাওয়া বরাল জানান, তাঁর স্ত্রী এখন কাদার নিচে এবং তিনি আর বেঁচে নেই।
ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন রসুয়ার শ্রমিক ২৪ বছর বয়সী বিবেক কুমল জানান, একটি নির্মাণাধীন বাড়ির গর্তে কাজ করার সময় পানি, কাদা ও পাথরের স্রোতে তিনি ভেসে যান। ভাগ্যক্রমে একটি আমগাছে আটকে যাওয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
ঠিক কী কারণে এই আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে দেশটির কর্মকর্তাদের মতে, তিব্বত অঞ্চলে হওয়া ভূমিকম্পের পরই এর সূত্রপাত। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নেপালের গোসাইকুন্ড হ্রদ থেকে ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ওই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়েছিল।





