প্রভাষক সেজে এইচএসসি খাতা মূল্যায়ন: শোকজে সিলেট শিক্ষা বোর্ড

প্রকাশ:

সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ এলাকার গ্রিনহিল স্টেট কলেজের অফিস সহকারী জয়ন্ত দত্তের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি প্রভাষক পরিচয় দিয়ে গত চার বছর ধরে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সিলেট শিক্ষা বোর্ড থেকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সীতেশ রঞ্জন বর্মণকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য একজন পরীক্ষককে কলেজ পর্যায়ের প্রভাষক হতে হয় এবং তার ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক। অথচ এই শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই জয়ন্ত দত্ত এ বছর বাংলা প্রথম পত্রের ৫৫৪ জন পরীক্ষার্থীর খাতা মূল্যায়ন করে শিক্ষা বোর্ডে জমা দিয়েছেন।

অভিযুক্ত জয়ন্ত দত্তের দাবি, ২০১৯ সালে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর শিক্ষক সংকটের কারণে তিনি ওই কলেজে বাংলা পড়ানো শুরু করেন। তার ভাষ্যমতে, নিয়োগপত্রটি তৎকালীন অধ্যক্ষ প্রয়াত প্রশান্ত কুমার সাহার কাছে ছিল।

নিয়োগপত্র ও অনুমোদনের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সীতেশ রঞ্জন বর্মণ জানিয়েছেন, জয়ন্ত দত্তের নিয়োগপত্র পরিচালনা পর্ষদের কাছে সংরক্ষিত আছে এবং শিক্ষা বোর্ডের অনলাইন আবেদনে তিনি নিজে অনুমোদন দেননি, বরং পর্ষদের সমন্বয়ক দিগ্বিজয় চক্রবর্তী এটি দিয়েছেন। তবে সমন্বয়ক দিগ্বিজয় চক্রবর্তীর দাবি, নিয়োগপত্রটি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছেই রয়েছে এবং আবেদনে তিনিই অনুমোদন দিয়েছেন।

শিক্ষা বোর্ডের বিদায়ি চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, পরীক্ষক হওয়ার জন্য নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করা আবশ্যক। তিনি বলেন, এই অভিযোগ সত্য হলে তা গুরুতর অনিয়ম। এ ঘটনার প্রেক্ষিতেই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে শোকজ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন