মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়ার খবরও তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৭২ ডলার বা ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৮৭ দশমিক ৮১ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৪৩ ডলার বা ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৮২ দশমিক ৬৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভোর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের বিষয়ে ইরানের কঠোর অবস্থানের কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জন্য দায়ী ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরাকে হামলা চালিয়েছে। এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের ওপর একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার দাবি করে। পাল্টা জবাবে ইরান দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে থাকা জাহাজ এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির দিকে হামলা চালিয়েছে।
তেহরান হরমুজ প্রণালির যৌথ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ওমানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় উপসাগরীয় বাণিজ্য স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। সপ্তাহের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে খুব অল্পসংখ্যক পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করলেও, বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে বুধবার পাঁচটি এবং মঙ্গলবার ৩৯টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা ১৯ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। এছাড়া ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী দক্ষিণ লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ফি আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
ডিবিএস ব্যাংকের জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সুব্রো সরকার মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে। কূটনৈতিক আলোচনা চললেও হরমুজ প্রণালির অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহারের সম্ভাবনা কম বলে তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল কমেছে। এছাড়া ওপেক প্লাস অক্টোবর থেকে টানা তিন মাস তেল উৎপাদন বৃদ্ধি স্থগিত রাখতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।





