মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ৩-২ গোলে জয়লাভ করে ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। তবে সেই জয়ের আনন্দ ফিকে হয়ে গেছে ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসার নিষেধাজ্ঞার খবরে। ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে জেসুস গালার্দোর ওপর বিপজ্জনক ট্যাকল করার দায়ে ভিএআরের সহায়তায় রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। এরপর প্রায় ৩৬ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেললেও ইংল্যান্ড জয় ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি ২২ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। সাধারণত সরাসরি লাল কার্ডের শাস্তি এক ম্যাচ হলেও, কোয়ানসার ট্যাকলকে ‘গুরুতর অসদাচরণ’ হিসেবে বিবেচনা করে এই মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল তো বটেই, ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠলেও তিনি খেলতে পারবেন না। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগ নেই ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে। ইংল্যান্ড যদি ফাইনালে ওঠে, তবেই ১৯ জুলাইয়ের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তিনি ফেরার সুযোগ পাবেন।
এই নিষেধাজ্ঞায় প্রধান কোচ টমাস টুখেল সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছেন, কারণ রাইট-ব্যাক পজিশনে দলের বিকল্প খুবই সীমিত। প্রথম পছন্দের রাইট-ব্যাক রিস জেমস হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে গ্রুপ পর্বে ঘানার বিপক্ষে ম্যাচের পর থেকেই মাঠের বাইরে এবং এখনও অনুশীলনে ফিরতে পারেননি। জেমসের অনুপস্থিতিতে টুখেলকে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে হয়েছে। পানামার বিপক্ষে কোয়ানসা চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর জেড স্পেন্স ও ডেক্লান রাইসকে ওই পজিশনে খেলানো হয়েছিল। মেক্সিকোর বিপক্ষে কোয়ানসা একাদশে ফিরলেও লাল কার্ড দেখার পর শেষ সময়ে এজরি কনসা দায়িত্ব পালন করেন।
কোয়ানসার এই শাস্তি নিয়ে ইংল্যান্ড শিবিরে অসন্তোষ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ১২ মাসের জন্য স্থগিত করার সাম্প্রতিক ফিফা সিদ্ধান্তের উদাহরণ টেনে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিল। তবে বিধি অনুযায়ী আপিলের সুযোগ না থাকায় সেই উদ্যোগ আর এগোয়নি। ফিফার শাস্তি প্রয়োগের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে টুখেল বলেন, ‘এর শুরু কোথায়, শেষই বা কোথায়? আমরা কি কোয়ানসার লাল কার্ড নিয়ে কিছু করতে পারি, নাকি পারি না? সীমারেখাটা কোথায় টানা হবে?’ তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এভাবে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ভবিষ্যতে কোনটি লাল কার্ড আর কোনটি নয়, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। এখন নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে রক্ষণভাগের সংকট কাটিয়ে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলাই ইংল্যান্ডের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



