সিরাজগঞ্জে এবার ড্রাগন ফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় জেলার কৃষকেরা বেশ সন্তুষ্ট। লাভজনক এই চাষাবাদ অনেক কৃষকের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। এখন জেলার অনাবাদি ও পতিত জমিতেও গড়ে উঠছে ড্রাগন ফলের বাগান, যা একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে অব্যবহৃত জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনছে।
উল্লাপাড়া, কামারখন্দ, কাজিপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক বছরে ড্রাগন ফলের চাষ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এছাড়া চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকাতেও গড়ে উঠছে নতুন নতুন বাগান। কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে কৃষকেরা এবার ড্রাগন আবাদ করেছেন। সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১৮ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ হয়েছে।
কৃষকদের আগ্রহের মূল কারণ হলো তুলনামূলক কম শ্রমে দীর্ঘদিন ফলন পাওয়া। একবার বাগানের কাঠামো তৈরি করলে ছয় থেকে সাত বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। চারা রোপণের প্রায় ছয় মাস পর থেকেই গাছে ফুল আসে এবং পরে ফল ধরে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় উঁচু, দোআঁশ ও বালুমিশ্রিত জমিতে এই চাষ বেশ উপযোগী বলে জানানো হয়েছে। জেলায় বাউ-১, বাউ-২ ও বাউ-৩ জাতের ড্রাগন চাষ হলেও বাউ-৩ জাতের চাষই বেশি হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দইভাঙ্গা নদীর তীরবর্তী ব্রহ্মখোলা গ্রামের উদ্যোক্তা এস এম ইদ্রিস আলী ড্রাগন চাষ করে সফল হয়েছেন। প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে বাউ-৩ জাতের ড্রাগন চাষ করছেন তিনি। ১৯৯৯ সাল থেকে ফল চাষে যুক্ত ইদ্রিস আলী ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো ড্রাগন বাগান করেন। শুরুতে কিছু সমস্যা হলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি এখন সফল। তিনি জানান, গত বছর প্রতি কেজি ড্রাগন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন, আর চলতি মৌসুমে তা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে তার।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন জানান, ড্রাগন চাষে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জের উপপরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা জানান, ড্রাগন একটি সম্ভাবনাময় ও লাভজনক ফল। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই চাষ আরও সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি অনাবাদি জমিও উৎপাদনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।





