বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং সংসদ টেলিভিশনসহ সরকারি মালিকানাধীন টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে এখন থেকে শুধু সরকারি দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কর্মকাণ্ডই নয়, বরং আনুপাতিক হারে বিরোধীদলের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড প্রচারের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি টেলিভিশনগুলো কেবল সরকারি দলের প্রতিনিধিদের প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। সংসদের বিরোধীদলের সদস্যদের পাশাপাশি সংসদের বাইরে থাকা বিরোধীদলগুলোর বক্তব্যও সমানভাবে তুলে ধরতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষে হোক বা বিপক্ষে, জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গণমাধ্যমে আসা উচিত, কারণ এটাই গণতন্ত্রের চর্চা। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য মঙ্গলবার থেকেই সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যম যা তুলে ধরতে চায়, তা প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। বর্তমান সময়ে গণমাধ্যম অতীতের চেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে। তিনি সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড প্রচারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, গঠনমূলক সংবাদ পেলে সরকার আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা পায়। তবে সরকারের সমালোচনার অধিকার গণমাধ্যমের রয়েছে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারের মধ্যে পার্থক্য আছে; তাই রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় বা রাষ্ট্রদ্রোহী এমন কোনো সংবাদ প্রচার করা সমীচীন নয়।
একই সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান জানান, গত ছয় মাসে সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে নির্দিষ্ট কোনো সংবাদ প্রকাশের জন্য কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট করেছেন যে, কাউকে নিয়ন্ত্রণ করা বা কারও মুখ বন্ধ করে দেওয়ার নীতি সরকারের নেই। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা তাদের নিজস্ব স্বাধীনতায় সংবাদ পরিবেশন করবেন এবং সরকার কোনো সংবাদ ডিকটেট বা কমেন্ট করার অবস্থানে নেই।





