কুয়েতের হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া এলাকায় গত চার দিন ধরে চলা সরকারি উচ্ছেদ অভিযানের কবলে পড়ে প্রায় অর্ধলাখ বাংলাদেশীসহ লক্ষাধিক বিদেশী নাগরিক খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। তীব্র ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস গরমে বিদ্যুৎ ও পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়ায় প্রবাসীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভুক্তভোগী বাংলাদেশীরা জানিয়েছেন, মালামাল সরানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।
কুয়েত সিটি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ জুলাই থেকে দেশটির আইনশৃংখলা বাহিনী হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া এলাকা ঘিরে ফেলে প্রতিটি বাড়ির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপরই বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়। যারা মালামাল বের করার সুযোগ পাননি, তাদের মালামাল নিরাপত্তা বাহিনীই রাস্তাঘাটে বের করে রেখে দেয়। প্রবাসীদের অভিযোগ, সরকার দীর্ঘ সময় ধরে এলাকাটি খালি করার নির্দেশনা দিলেও ভাড়াটিয়াদের বিষয়টি সেভাবে জানানো হয়নি। এলাকাটি এয়ারপোর্টের কাছে হওয়ায় উন্নয়ন কাজের জন্য সরকার এটি খালি করছে বলে জানা গেছে।
খোলা আকাশের নিচে অবস্থানরত একজন প্রবাসী জানান, এসি ছাড়া স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এই প্রচণ্ড গরমে থাকা অমানবিক। তিনি বলেন, তারা কুয়েতের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কিন্তু এ ধরনের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া তাদের কাছে অপ্রত্যাশিত। বর্তমানে অনেক প্রবাসী বিভিন্ন এলাকায় নতুন বাসার সন্ধানে ঘুরছেন, কেউবা বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন।
বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে গত ১৬ জুলাই একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে উচ্ছেদ হওয়া প্রবাসীদের জন্য হাসাবিয়ার একটি সরকারি স্কুলে অস্থায়ী শেল্টার হাউজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দূতাবাস জানায়, সেখানে খাদ্য, পানি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে প্রবাসীদের দাবি, অন্তত এক লাখ বিদেশী নাগরিকের বিপরীতে ওই স্কুলে মাত্র এক থেকে দুই হাজার মানুষের জায়গা সংকুলান সম্ভব। দূতাবাসের পক্ষ থেকে কুয়েত সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলেও দেশটির আইনের বিরুদ্ধে তাদের যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, অন্য একটি সূত্র থেকে জানা যায়, এলাকাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কুয়েত সরকার অনেক আগে থেকেই নোটিশ দিয়েছিল। কিন্তু বাসিন্দারা সেটিকে আমলে না নেয়ায় সরকার কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সরেজমিনে প্রবাসীদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
গতকাল সন্ধ্যার আগে খোলা রাস্তায় অবস্থান করা একজন প্রবাসী বাংলাদেশী নয়া দিগন্তকে তার সর্বশেষ অবস্থান জানিয়ে বলেন, কুয়েত সরকার গত ১২ বছর ধরেই হাসাবিয়া এলাকা খালি করার নির্দেশনা দিয়ে আসছিলেন। তবে সেটি বাড়ির মালিকদের দিচ্ছিলেন। আমরা যারা ভাড়াটিয়া আছি তাদেরকে কখনো কুয়েত সরকার অথবা বাড়িওয়ালারা গুরুত্ব দিয়ে বলেননি। কেন এই এলা




