আখাউড়ায় আউশ ধানের বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকের স্বপ্ন

প্রকাশ:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে আউশ ধানের ক্ষেত সবুজে ছেয়ে গেছে। বোরো ধান কাটার পর বাড়তি ফসল হিসেবে কৃষকরা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহায়তায় এই আউশ ধান আবাদ করেছেন। নীল আকাশের নিচে সবুজ ধানের চারা বাতাসে দোল খাচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষকদের মনে নতুন স্বপ্নের জাল বুনছে। সময়মতো জমি প্রস্তুত এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ২১২ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রান্তিক কৃষকদের উৎসাহ দিতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রণোদনা হিসেবে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে। রোগবালাই ও পোকা দমনে কঞ্চি ও গাছের ডাল পুঁতে পাখি দিয়ে পোকা খাওয়ার পরিবেশ তৈরিতেও কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

সরেজমিনে উপজেলার সদর দক্ষিণ, মোগড়া ও মনিয়ন্দ ইউনিয়নে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে আউশের সবুজে সমারোহ। কৃষক মো. রবিউল ইসলাম জানান, গত বোরো মৌসুমে ভালো ফলন পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় জমি খালি না রেখে তিনি ৪ বিঘা জমিতে আউশ চাষ করেছেন। কৃষি অফিসের দেওয়া সার ও বীজের পাশাপাশি সঠিক পরিচর্যায় ধানের অবস্থা খুবই ভালো। একই কথা জানান কৃষক মো. শাহনেওয়াজ, যিনি ৩ বিঘা জমিতে আউশ চাষ করেছেন। তিনি জানান, বোরো ও আমনের মধ্যবর্তী সময়ে আউশ চাষে খরচ কম হওয়ায় এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক।

কৃষক মো. কুদ্দুস মিয়া ২ বিঘা জমিতে আউশ চাষ করেছেন এবং কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, রোপণের পর থেকে নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় সেচ নিয়ে কোনো বাড়তি দুশ্চিন্তা করতে হয়নি।

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. ইসমাইল মুন্সী বলেন, আউশ একটি অতিরিক্ত ফসল হিসেবে কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ। উৎপাদন বাড়াতে তাদের সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, আউশ চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি। ধান কাটা শেষ হলে একই জমিতে পুনরায় আমন ধান রোপণ করা সম্ভব হবে, যা কৃষকদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। প্রতিকূলতা কাটিয়ে সঠিক পরিচর্যায় এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষি বিভাগ আশা করছে।

শেয়ার করুন